আরিফুর রহমান আরিফ : | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 6 বার পঠিত
চুয়াডাঙ্গার নূরনগর গ্রামে দেড় বছরের এক শিশুর গলায় ট্যাবলেট আটকে মৃত্যুর ঘটনা আমাদের নাড়িয়ে দেওয়ার মতোই বেদনাদায়ক। একটি প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা যে এত বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে—এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ।
শিশুটি কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিল। তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করতে গিয়েই ঘটে গেলো এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। একটি ট্যাবলেট, যা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ বিষয়, সেটিই হয়ে উঠল একটি নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যুর কারণ। এখানে প্রশ্ন উঠে—শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আমরা কতটা সচেতন?
শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োগ একটি সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, ছোট শিশুদের কখনোই সরাসরি ট্যাবলেট খাওয়ানো উচিত নয়। প্রয়োজন হলে তা গুঁড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে বা সিরাপ আকারে দেওয়া উচিত। অথচ সচেতনতার অভাব, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন এবং স্থানীয় দোকানের ওপর নির্ভরশীলতা—এই তিনটি বিষয়ই প্রায়শই এমন দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।
এই ঘটনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে—প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতা। গলায় কিছু আটকে গেলে কীভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হয়, সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। অথচ দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে হয়তো একটি জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো।
এমন দুর্ঘটনা রোধে পরিবার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সবারই দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, শিশুদের চিকিৎসায় অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ফার্মেসিগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক গভীর শোকের বার্তা। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে।
এখনই সময়—সতর্ক হওয়ার, সচেতন হওয়ার, এবং একটি প্রাণহানিকেও যেন আর ‘দুর্ঘটনা’ বলে মেনে নিতে না হয়।
Posted ৬:০২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah