অনলাইন ডেস্ক | শনিবার, ২৫ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | 288 বার পঠিত
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস কমানো এবং সরকারি হাসপাতালে রোগীর সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় এক বছর আগে হাসপাতালের বৈকালিক চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হলেও এখন সেখানে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। কদাচিৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মিললেও মিলছে না রোগীদের তাৎক্ষণিক অন্যান্য সেবা। ফলে চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। আশা করা হয়েছিল, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পর সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশে কমবে; দৌরাত্ম্য কমবে বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোর।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মূল্য হ্রাস এবং গুণগত মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এ উদ্যোগটি নিয়েছিল। একটি নীতিমালার আলোকে গত বছর মোট ১৮৩টি সরকারি হাসপাতালে ‘বৈকালিক কনসালটেশন বা ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কার্যক্রমের হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক সেবা নিতে মাত্র একজন রোগী এসেছিলেন; বুধবার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক সেবা নিতে কোনো রোগী আসেননি। অথচ আমরা জানি, এখনো দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থের অভাবে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। অনুমান করা যায়, সেবার জন্য এসে চরম বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার কারণেই এ কার্যক্রমের প্রতি মানুষের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে।
বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভরসা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো।
দুঃখজনক হলো, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র, অ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি অচল পড়ে থাকার খবর প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। বহু যন্ত্রপাতি ঠিক থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করা হয় না, আবার কোনো কোনো যন্ত্রের ব্যবহার হয় আংশিক। কোনো কোনো সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতির প্যাকেট খোলাই হয় না।
স্বাস্থ্য খাতের এসব খবর বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, তা আমাদের জানাই থেকে যায়। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে গরিব মানুষ ঝাড়ফুঁকের দিকে ঝুঁকছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের স্বাস্থ্য খাত মুখ থুবড়ে পড়বে। গরিব মানুষ যাতে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসাসেবা পায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।
Posted ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah