ফিচার ডেস্ক | শনিবার, ০১ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | 640 বার পঠিত
ভারতের আসাম রাজ্যের একটি বড় অংশ বন্যাকবলিত। সেই পানি এরই মধ্যে নামতে শুরু করায় এবং একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ছে। সিলেটের তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। জেলার তিনটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সিলেট জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। একই সময়ে তিস্তা অববাহিকায়ও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের সিকিমে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ফুঁসে উঠেছে। গজলডোবা ব্যারাজের কিছু লকগেট এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে।
বাকিগুলোও যেকোনো সময় খুলে দেওয়া হতে পারে। ফলে তিস্তা দিয়ে নেমে আসা ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়ও।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল ৩টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এর মধ্যে তিনটিই সিলেট জেলার। এই জেলার সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১০৯ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের অমলসিদ পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার এবং সারিগোয়াইন নদের পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের মোংলা পয়েন্টে পশুর নদের পানি বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া ক্রমেই চরম ভাবাপন্ন হচ্ছে।
অতিবৃষ্টির ঝুঁকিও বাড়ছে। উজানে তথা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাত বা বন্যা হলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। সেই পানি বাংলাদেশের মধ্যে থাকা নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। সমস্যা হচ্ছে, আগে নদীগুলোর গভীরতা ছিল। সেই পানির বড় অংশ নদী দিয়েই যেতে পারত। এখন নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। নদী সেই পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে নদীর দুই কূলে থাকা জনপদ, ফসলের মাঠ প্লাবিত হচ্ছে। এতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। নদী অববাহিকার মানুষের জীবনমানের অবনতি হচ্ছে। তাই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে নিয়মিত নদী খনন বা নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা। তার আগ পর্যন্ত প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনকে রক্ষায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকতে হবে।
বৃহত্তর সিলেটে বন্যার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে আমলে নিতে হবে। বন্যার সময় খাদ্য সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হবে। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তা মোকাবেলার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।
Posted ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০১ জুন ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah