অনলাইন ডেস্ক | শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | 572 বার পঠিত
কয়েক দিনের একটানা ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের ৯টি জেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। এসব জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৩০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত বুধবার পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ও লঘুচাপের প্রভাবে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে আসতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনীর তিনটি উপজেলা। এগুলো হচ্ছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা। এসব উপজেলার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। দেড় মাস আগেও বন্যায় এই জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
বেশ কিছু বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। সেসব বাঁধ দিয়ে এবার দ্রুত পানি প্রবেশ করায় সব কিছু এত তাড়াতাড়ি তলিয়ে যায় যে মানুষ খাদ্যদ্রব্যসহ মূল্যবান মালপত্র সরানোরও সময় পায়নি। ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে প্রবল বর্ষণ, উজানের ঢলের পাশাপাশি জোয়ারের পানিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। কুমিল্লায় গোমতীর বাঁধের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে রোপা আমনেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ডম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ হঠাৎ খুলে দিয়ে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশকে না জানিয়ে ত্রিপুরার ডম্বুর বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশের ফেনী ও আশপাশের অঞ্চলে হঠাৎ পানির প্রবল চাপ সৃষ্টি হয় এবং বন্যা দেখা দেয়। অতীতে একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে তিস্তার উজানে থাকা গজলডোবা বাঁধ হঠাৎ খুলে দেওয়ার কারণে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীগুলোর ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে এবং নদীগুলোতে থাকা সব অবৈধ বাঁধ অপসারণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
অতীতে অনেক গবেষণায়ই উঠে এসেছে, বাংলাদেশে অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মিলে যত ক্ষয়ক্ষতি হয়, শুধু বন্যায় তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় আমাদের নদীগুলো নাব্য না থাকার কারণে। পলি জমতে জমতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার ও উজানের ঢলের পানি নদী দিয়ে নামতে পারে না, তখন নদীর দুই পারে থাকা জনবসতি ও ফসলি জমি ভাসিয়ে পানি সাগরে যায়। তাই নদীগুলো নাব্য করার উদ্যোগ নিতে হবে। তার আগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। খাদ্য ও পানীয়জল সরবরাহ করতে হবে। বন্যা-পরবর্তী রোগব্যাধি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখতে হবে।
Posted ৪:২০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah