আরিফুর রহমান আরিফ : | শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 41 বার পঠিত
আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের প্রতীক এই দিন। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন এবং রক্তঝরা ইতিহাস থেকেই মে দিবসের সূচনা। সেই আন্দোলনের চেতনা আজও বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকারের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি অগ্রগতির পেছনে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, কারখানার কর্মী, পরিবহন শ্রমিক, গৃহকর্মী কিংবা প্রবাসী শ্রমিক—সবাই দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি। তাদের পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে উন্নয়ন, সচল থাকে শিল্পকারখানা, এগিয়ে যায় জাতীয় উৎপাদন ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষিখাত ও প্রবাসী আয়ের বড় অংশ শ্রমিক শ্রেণির ঘামঝরা পরিশ্রমের ফল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অনিয়মিত বেতন ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতা আজও বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য—“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”—সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রমিক সুস্থ থাকলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে, পরিবারে স্বস্তি আসে এবং জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। তাই শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি উন্নয়নেরও পূর্বশর্ত।
মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রমের ন্যায্য মূল্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মহান মে দিবসে সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্মান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হবে।
Posted ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah