আরিফুর রহমান আরিফ : | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 19 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নে নতুন একটি সেতুর উদ্বোধন নিঃসন্দেহে স্থানীয় জনপদের জন্য স্বস্তির খবর। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু যাতায়াত সহজ করে না, এটি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করে। দাড়িয়াপুর থেকে বড়হরণ বাজার সড়কে নির্মিত এ সেতুটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা।
তবে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল উদ্বোধনই শেষ কথা নয়; বরং এর মান, স্থায়িত্ব এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিম্নমানের কাজ ও অসমাপ্ত প্রকল্পের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার মতো। অতীতে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে পরিকল্পনার ঘাটতি, তদারকির অভাব কিংবা দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে—যার ফল ভোগ করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে নির্মিত প্রতিটি প্রকল্প জনগণের সম্পদ। তাই একই কাজ বারবার করতে হলে তা শুধু অর্থের অপচয়ই নয়, উন্নয়নের গতিকেও বাধাগ্রস্ত করে। এ বাস্তবতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সম্মিলিত নজরদারি থাকলে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান অনেকাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।
এছাড়া, সেতু নির্মাণের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, উদ্বোধনের পর প্রকল্পগুলো অবহেলায় পড়ে থাকে, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন টেকসই করতে হলে শুধু নতুন প্রকল্প গ্রহণ নয়, বিদ্যমান কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই সেতু যেন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়—এটাই প্রত্যাশা।
Posted ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah