জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 87 বার পঠিত
গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে ৩০ মামলার আসামি পিচ্চি রাজা পালিয়ে গেছেন। পরে তাঁর পলায়নের ঘটনা আড়াল করতে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় সাজানো হয় ‘পলায়নের নাটক’। এমন তথ্য জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
এ ঘটনায় পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নায়েক কামালের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাঁদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান।
পরে এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামিবাহী গাড়িটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা এসআই প্রদীপ কুমার পিচ্চি রাজাকে টয়লেট করানোর জন্য গাড়ি থেকে নামান। এ সময় কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে স্কট পার্টি প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে তাঁতীবাজারের পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে প্রিজন ভ্যানটি থামানো হয়।
এ সময় স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নেন। এরপর আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যান তিনি। পরে খাইরুল বাশারকে প্রিজন ভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসানো হয়।
পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। সেখানে অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা বাইমাইলের ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন।
এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে পিচ্চি রাজার পলায়নের বিষয়ে এজাহারে বর্ণিত বাইমাইলের ঘটনাটি সাজানো হয় বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
তদন্তকারী দল বিভিন্ন সাক্ষ্য, প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের পর পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। এ সময় নায়েক কামালের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি পলাতক আসামি পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Posted ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah