সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 77 বার পঠিত
রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ বছর বয়সী শিশু ওয়াইজ কুরুনী আভানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। সংগঠনের সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিন এক বিবৃতিতে বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ ছাড়া শিশুমৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর নিন্দা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো শিশুর অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শিশু আভানের মৃত্যুতে বিপিএমসিএ পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল বিবরণ প্রকাশ করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে শিশু আভান জ্বর, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে (ওপিডি) আসে। পিআইসিইউতে কর্তব্যরত সিনিয়র ডিউটি স্পেশালিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম শিশুটিকে পরীক্ষা করেন এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালের নবজাতক শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মাহফুজা শিরীনের অধীনে ভর্তির পরামর্শ দেন। ভর্তির পরপর ইনভেস্টিগেশনে শিশুটির শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন নিশ্চিত হলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা হয়। ভাইটালস ভালো থাকায় তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
শিশু ওয়ার্ডে থাকাকালীন প্রতিদিন বেশ কিছু ইনভেস্টিগেশন করা হয়। এতে ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ আসলেও অন্যান্য প্যারামিটার—যেমন CRP, Ferritin, Procalcitonin, SGPT ও SGOT—ডেঙ্গু এক্সটেন্ডেড সিন্ড্রোমের (Dengue Extended Syndrome) সঙ্গে ক্লিনিক্যালি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ডেঙ্গু মহামারির এই মৌসুমে এ ধরনের রিপোর্ট স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ীই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান চলতে থাকে।
০১ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যার পর থেকে রোগীর ভাইটালস ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। প্রফেসর ডা. মাহফুজা শিরীন রোগী দেখতে এলে রোগীর মা জানান, বাচ্চা দুর্বল (লেথার্জিক) হয়ে যাচ্ছে। প্রফেসর শিরীন তাৎক্ষণিকভাবে ভাইটালস দেখে ক্লোজ মনিটরিংয়ের জন্য শিশুটিকে পিআইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রোগীর মা পিআইসিইউতে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘যা চিকিৎসা দেওয়ার এখানেই দেন।’
০২ অক্টোবর সকাল থেকে বাচ্চার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। দুপুর দেড়টায় প্রফেসর শিরীন আবারও রোগী দেখেন এবং দ্রুত পিআইসিইউতে শিফট করতে বলেন। কিন্তু তখনো রোগীর স্বজনরা কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা রাজি হওয়ায় বিকাল ৪টায় রোগীকে পিআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পিআইসিইউতে স্থানান্তরের পর প্রেশার বাড়ানোর জন্য Hartsol, Plasmasol ইনফিউশন, Inj. Dobutamine ও Inj. Nor-Adrenaline যোগ করা হয়।
০৩ অক্টোবর সকাল থেকে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। মায়োকার্ডাইটিসের পক্ষে Troponin-I ও Pro-BNP-এর রিপোর্ট বেশি থাকায় Inj. IVIG ও Inj. Methylprednisolone দেওয়া হয়। বিকাল সাড়ে তিনটায় শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্ট (ভেন্টিলেটর) দেওয়া হয় এবং সিভি লাইন করা হয়। কিন্তু সকল জীবনরক্ষাকারী ওষুধ চালানোর পরেও রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং সিপিআর দিয়ে হার্টবিট পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিকাল ৫টা ২ মিনিটে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দীর্ঘদিন যাবত এনআইসিইউ ও পিআইসিইউতে অসংখ্য বাচ্চাকে সফলভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এই পিআইসিইউ ও এনআইসিইউ দুইজন স্বনামধন্য প্রফেসরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাদের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা শিশুরোগে এমডি ও এফসিপিএস ডিগ্রিধারী স্পেশালিস্ট ডাক্তার, দক্ষ নার্স, মেডিকেল অফিসার ও শিশু বিশেষজ্ঞ রেজিস্ট্রার বিদ্যমান থাকেন।
বিপিএমসিএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিবেদিত প্রচেষ্টাকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো অপতৎপরতা অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত সত্য যাচাই না করে কোনো প্রকার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণ ও সম্মানিত শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিন সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নিজ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষা খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
Posted ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah