সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 107 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ উদ্ভাবক দল থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তারা সেখানে “ইকো পালস” নামের একটি জীবনরক্ষাকারী ও পরিবেশ-সুরক্ষা রোবট প্রদর্শন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী কিশোর উদ্ভাবক আহনাফ বিন আশরাফ নাবিলের নেতৃত্বে এম আদিয়াত ইয়ামিম রায়ান ও ফজলে রাব্বির সমন্বয়ে গঠিত এ দলটি ২৯ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত World Youth STEAM Invention & Innovation International-এ অংশ নেয়। সেখানে তারা ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইন্টারন্যাশনাল সিলভার মেডেল, বেস্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড এবং প্যানেল চয়েজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।
উদ্ভাবকদের দাবি, “ইকো পালস” শুধু একটি রোবট নয়; এটি একটি সমন্বিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইকোসিস্টেম, যেখানে প্রতিটি ইউনিট একে অপরকে সহায়তা করে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দ্রুত জীবনরক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করতে পারে। রোবটটি ভূমিকম্প, বন্যা বা ভবনধসের মতো দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে ধ্বংসস্তূপ, কাদা, পাথর বা ভাঙা রাস্তা অতিক্রম করতে সক্ষম। এটি সেন্সরের মাধ্যমে জীবিত, অচেতন বা আহত মানুষ শনাক্ত করতে পারে; শ্বাস-প্রশ্বাস, তাপমাত্রা ও নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে এবং গ্যাস বা আগুনের উপস্থিতি থাকলে সতর্ক সংকেত দেয়।
নাবিল জানান, রোবটটি আকাশপথে দুর্গত এলাকা স্ক্যান করে ক্ষয়ক্ষতির মানচিত্র তৈরি করতে পারে এবং উদ্ধার অভিযানের রুট নির্ধারণে সহায়তা করে। যেসব স্থানে রোভার পৌঁছাতে পারে না, সেগুলোও শনাক্ত করে বৃহৎ এলাকা দ্রুত পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম—যা এ উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এসএসসি পরীক্ষার্থী নাবিল এই প্রতিযোগিতায় টিম লিড, প্রজেক্ট লিড ও রিসার্চ লিড—তিনটি দায়িত্বই একযোগে পালন করেন। এর আগেও তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্ভাবক হিসেবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনের কঠিন বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন নাবিল। তার ভাষায়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কাজ সময়, শ্রম ও অর্থসাপেক্ষ; আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়, কিন্তু সব সময় প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেলে বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নাবিলের মা ও নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা নায়েনা আক্তার তৃণা বলেন, ছোটবেলা থেকেই নাবিল দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। তার প্রতিটি অর্জনের পেছনে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও স্রষ্টার প্রতি অটল বিশ্বাস রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারায় একজন মা হিসেবে তিনি গর্বিত।
Posted ৪:৪৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah