নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 7 বার পঠিত
জন্ম থেকেই দুই হাত অচল। তবুও থেমে নেই তার পথচলা। নিজের দুই পাকে শক্তি ও সাহসের হাতিয়ার বানিয়ে জীবনের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে চলেছেন তিনি। পা দিয়েই লিখে এসএসসি থেকে শুরু করে বর্তমানে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন লালমনিরহাটের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফা খাতুন—যিনি আজ এক অনুপ্রেরণার নাম।
জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অন্যদের মতো হাতে কলম ধরতে না পারলেও পা দিয়েই সুন্দর ও স্পষ্টভাবে লিখে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাইকে বিস্মিত করেছেন আরিফা। তার লেখার দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বশীলরাও।
আরিফা লালমনিরহাট পৌর এলাকার উত্তর সাপটানা শাহীটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৪৪ অর্জন করেন। এরপর লালমনিরহাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
আরিফার মা মমতাজ বেগম জানান, পাঁচ সন্তানের মধ্যে আরিফা সবচেয়ে ছোট। জন্ম থেকেই তার দুই হাত অচল। দারিদ্র্যের কারণে যথাযথ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলী জীবদ্দশায় ফুটপাতে তালা-চাবির কাজ করে সংসার চালাতেন। চার বছর আগে তিনি মারা যান। বর্তমানে মা-মেয়ে টিউশনি করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন।
এসএসসি পাসের পর আরিফা ভর্তি হন মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে লালমনিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন। এখন তিনি মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে আরিফা শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, বরং এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। পা দিয়ে তার লেখা এতটাই পরিপাটি যে অনেকেই বিস্মিত হন। প্রতিটি অক্ষরে ফুটে ওঠে তার অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস।
আরিফার স্বপ্ন—লেখাপড়া শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়া এবং স্বাবলম্বী জীবন গড়া। পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও সমাজে অবদান রাখতে চান তিনি।
মাস্টার্স পরীক্ষার হলরুমে দায়িত্বে থাকা প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, “আরিফা অত্যন্ত মেধাবী। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায় সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, সে সফল হবে।”
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, “আরিফা প্রমাণ করেছে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই বাধা নয়। তাকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন বলেন, “এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব। যথাযথ সহায়তা পেলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।”
সব বাধা পেরিয়ে আরিফা খাতুন আজ দেখিয়ে দিয়েছেন—ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
Posted ৩:০১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah