জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 127 বার পঠিত
গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের বিনিরাইল এলাকায় প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তির প্রথম দিনে প্রায় আড়াইশো বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। সময়ের পরিক্রমায় মেলাটি আজও তার ঐতিহ্য, জনপ্রিয়তা ও প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রেখেছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘জামাই মেলা’ নামে পরিচিত হলেও অনেকের কাছে এটি ‘মাছের মেলা’ হিসেবেও সমাদৃত। গাজীপুরসহ আশপাশের অঞ্চলের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ মেলা হিসেবে পরিচিত, যা জামাইদের সম্মান ও আপ্যায়নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ শতকে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এ মেলার প্রচলন শুরু হয়। শুরুতে এটি মাছের মেলা হিসেবে পরিচিত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘জামাই মেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। উপজেলার জাঙ্গালিয়া, বক্তারপুর ও জামালপুর ইউনিয়নের ত্রি-মোহনায় বিনিরাইল গ্রামের পাশে কৃষকের ফসলি জমিতে ধান কাটার পর এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রায় ২৫০ বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিকে বা মাঘ মাসের প্রথম দিন বিনিরাইল গ্রামে এ জামাই বা মাছের মেলা বসে। বুধবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের মাঠজুড়ে মানুষের ঢল নামে। দিনভর ও রাত পর্যন্ত চলা এ মেলায় লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গাজীপুর ছাড়াও ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে জামাই-শ্বশুর ও সাধারণ দর্শনার্থীরা মেলায় অংশ নিতে ছুটে আসেন।
মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো জামাইদের জন্য বিশাল আকৃতির মাছ। মেলা প্রাঙ্গণে দুই শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ নিয়ে পসরা সাজান। এর মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতল, বাঘাইড়, আইড়, কালী বাউশ, পাবদা, ইলিশ, সারষ, গলদা চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ। এসব মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা হয়। বিক্রেতারা জানান, তুলনামূলকভাবে কম দামে বড় মাছ পাওয়া যায় বলে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
মাছের পাশাপাশি মেলায় ফার্নিচার, তৈজসপত্র, মিষ্টি, খেলনা, ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান বসে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানও মেলার আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। সারি সারি বড় মাছ মূলত জামাইদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজানো হলেও শ্বশুরসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনও পরিবার নিয়ে মেলায় এসে আনন্দ উপভোগ করেন।
মেলা আয়োজন কমিটির সভাপতি আলী হোসেন জানান, ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, “আগে মেলায় দোকান বসাতে নির্দিষ্ট টাকা দিতে হতো, তবে এবার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।”
Posted ৪:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah