সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 17 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুটি বাজারকে পৌরসভা ঘোষণার দাবিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন বিএনপি কর্তৃক প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের এমপি প্রার্থী ও ভূঞা গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ ভূঞা। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসীর পক্ষে এই চিঠি প্রেরণ করা হয়। একের পর এক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা কবীর আহমেদ ভূঞার এই পদক্ষেপকে কসবাবাসী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
চিঠিতে কবীর আহমেদ ভূঞা কুটি বাজারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান সম্ভাবনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। কুমিল্লা-সিলেট ও কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুটি-চৌমুহনীর অনতিদূরে অবস্থিত এই প্রাচীন জনপদটি কসবা উপজেলার ৮নং কুটি ইউনিয়নের অন্তর্গত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ইউনিয়নটি শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ একটি এলাকা। জনশ্রুতি আছে, এককালে এই বাজারে কোটি কোটি টাকার পাট কেনাবেচা হতো বলেই এর নাম হয়েছে ‘কুটি’।
চিঠিতে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, কুটি ইউনিয়নের আয়তন ৫ হাজার ২২ একর বা ২০ দশমিক ৩২ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৬৫১ জন এবং মোট পরিবার ৭ হাজার ৬৩৭টি। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ জন। এলাকার অধিকাংশ মানুষের পেশা অকৃষি এবং ভূমির বড় অংশও অকৃষি প্রকৃতির। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ সেন্টার এবং সম্পূর্ণ সেনানিবাসমুক্ত এলাকা — যা পৌরসভা গঠনের সব শর্ত পূরণ করে।
কবীর আহমেদ ভূঞা চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, কুটি বাজার কসবা উপজেলার সবচেয়ে বড়, প্রাচীন ও জনপ্রিয় বাজার। কুটি, তারানগর, আতকাপাড়া, জাজিয়ারা ও লেশিয়ারাসহ আশেপাশের বহু গ্রামের মানুষ এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। নৌ ও স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সুবিধাজনক হওয়ায় এটি ইতিমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পৌরসভা ঘোষিত হলে এখানে নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠবে, সরকারি রাজস্ব বাড়বে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নাগরিক সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, এটি জাতীয় সংসদের ২৪৬নং নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪-এর অন্তর্গত — যে আসনেই কবীর আহমেদ ভূঞা বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী। এলাকাবাসী বলছেন, কবীর আহমেদ ভূঞা এমপি না হয়েও ধারাবাহিকভাবে এলাকার উন্নয়নে একের পর এক কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। জাঙ্গালের ভাঙা সেতুতে বরাদ্দ, বরিশল ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব, তন্তর বাজারকে পৌরসভা ঘোষণার দাবি — আর এখন কুটি বাজারকে পৌরসভা করার উদ্যোগ। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে তিনি সত্যিকারের একজন জনদরদী নেতা যিনি ক্ষমতায় না থেকেও এলাকার মানুষের জন্য লড়াই থামাননি।
এলাকাবাসী আশা করছেন, কবীর আহমেদ ভূঞার এই জোরালো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং কসবার এই প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ অচিরেই পৌরসভার মর্যাদা লাভ করবে।
Posted ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah