জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 39 বার পঠিত
গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় বাবা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় নিহত সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা প্রাইমারি স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল হোসেন (৪৮) এবং তার ছোট ছেলে সাকিব হোসেন (১৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোররাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহানের সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
জানা যায়, সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে টঙ্গীর বনমালায় জমি কিনে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ১৮ মাস আগে দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় তার স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি একাই দুই ছেলেকে লালন-পালন করতেন। সাকিব রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং পাশাপাশি তেজগাঁওয়ের একটি দোকানে কাজ করত।
ঘটনার রাতে সোহেল তার দুই ছেলে সাকিব ও সোহানকে নিয়ে একই বাসার পৃথক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। শেষ রাতে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। পরে ঘর থেকে সাকিবের মরদেহ এবং বাসার পাশের রেললাইনের ধারে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ট্রেনে কাটা পড়ে সোহেলের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সাকিবের শরীরেও একাধিক কাটা দাগ ছিল, মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া এবং হাতের রগ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।
দুই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৭ মিনিটে সোহান তার বাবাকে অসুস্থ অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধারণা, এ ঘটনায় তার সঙ্গে আরও একজন সহযোগী থাকতে পারে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভিতে আরেকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে মাদানী আলিফ ওরফে আলিফ সাদমান হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বেলায়েত হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “তদন্ত চলছে। দ্রুতই এই জোড়া হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
Posted ১:০০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah