জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 20 বার পঠিত
টানা বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় চার দিন ধরেও জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার হরতকিতলা, পূর্ব চন্দনা ছাপরা মসজিদ এলাকা, পূর্ব চান্দরা জোড়া পাম্প এলাকা এবং বিশ্বাসপাড়া এপেক্স কারখানার পেছনসহ বিভিন্ন স্থানের অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বাড়িঘর, আঙিনা ও সড়ক। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া এবং কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হরতকিতলা ও পূর্ব চন্দনা ছাপরা মসজিদ এলাকার বহু পরিবার ঘরের আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংকট।
হরতকিতলা এলাকার বাসিন্দা ইউছুব আলী বলেন, “চার দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ঠিকমতো রান্নাবান্নাও করতে পারছি না। পানি নামারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।”
একই এলাকার বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, “বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে। কিন্তু এবার চার দিন পেরিয়ে গেলেও পানি নামেনি। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, দোকানে পানি ঢুকে মালামালের ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও পানি চলাচলের পথ দখল এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “একসময় যেসব নিচু এলাকা দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো, সেসব স্থান ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। প্রশাসনের একাধিক দল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। আশা করছি, বিকেলের মধ্যে পানি নেমে যাবে।”
তবে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা রোধে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
Posted ৭:২০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah