হাকিকুল ইসলাম খোকন : | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 7 বার পঠিত
নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরীকে স্মরণ করে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৮তম গ্রন্থালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সাহিত্যসভা গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক ও পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয় কবি শহীদ কাদরীর স্মৃতির প্রতি। ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই কবি ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীর মাস আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবির কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, জীবন, নির্বাসন, ব্যক্তিত্ব, স্মৃতি ও সাহিত্যভাবনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন কবি, সাহিত্যিক ও গবেষকরা।
আলোচনায় আরিফ মাহমুদ শৈবাল শহীদ কাদরীর জীবনের কম আলোচিত ও অন্তরঙ্গ নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি কবির ব্যক্তিত্ব, জীবনবোধ, নিঃসঙ্গতা ও আত্মজিজ্ঞাসার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন।
কাউসারী মালেক রোজী শহীদ কাদরীর মননশীলতা, স্মৃতি, মানবিকতা ও রসবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি কবির দুটি গদ্য নিয়েও আলোচনা করেন।
মহিবুর রহমান শহীদ কাদরীর অনুবাদসাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন। বিদেশি কবিতা, গদ্য ও নাটক বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলা পাঠকের সংযোগ তৈরিতে কবির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর আলোচনায় ‘অমৃতের সন্তান’সহ বিভিন্ন অনুবাদকর্মের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সুরীত বড়ুয়া শহীদ কাদরীর কবিতায় শব্দচয়ন ও শব্দের নান্দনিক বিন্যাস নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেন। তিনি কবির ভাষার আধুনিকতা, সংযম ও স্বতন্ত্র প্রকাশভঙ্গির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আহমাদ মাযহার শহীদ কাদরীর গদ্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য, চিন্তার গভীরতা, ভাষার স্বাতন্ত্র্য ও জীবনদৃষ্টির ওপর আলোকপাত করেন। কবি হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তাঁর গদ্যরচনার গুরুত্বপূর্ণ অবদানও তিনি তুলে ধরেন।
এ বি এম সালেহউদ্দীন শহীদ কাদরীর দুর্লভ সাক্ষাৎকার ও কথোপকথনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এসব সাক্ষাৎকারে কবির ব্যক্তিজীবন, সাহিত্যভাবনা ও সমকাল সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির নানা দিক উঠে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালে ঢাকার কবি প্রকাশনী থেকে ‘সাক্ষাৎকার’ নামে ১৫টি সাক্ষাৎকারের একটি সংকলন প্রকাশিত হওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব দুর্লভ সাক্ষাৎকার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের মূল্যবান দলিল হিসেবে টিকে থাকবে।
মনিজা রহমান শহীদ কাদরীর জীবনে নির্বাসনের প্রভাব ও এর বহুমাত্রিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেন। দেশ ও স্বদেশ থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা কবির মনোজগৎ ও সৃষ্টিশীলতাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, তা তিনি তুলে ধরেন।
হাসান ফেরদৌস শহীদ কাদরীর পরিচিত ও অনালোচিত—দুই সত্তাকেই আলোচনায় নিয়ে আসেন। সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি কবির ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন ও চিন্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি শহীদ কাদরীর একটি বহুমাত্রিক প্রতিকৃতি উপস্থাপন করেন।
বদরুন নাহার শহীদ কাদরীর নিঃসঙ্গতা, নির্জনতা ও অন্তর্জগত নিয়ে আলোচনা করেন। একাকিত্ব ও নিভৃত জীবনের সঙ্গে কবির সৃষ্টিশীলতার সম্পর্কও তিনি তুলে ধরেন।
আলোচনায় শহীদ কাদরীর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও রচনার মধ্যে ‘কবিতার উত্তরাধিকার’ (১৯৬৭), ‘তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা’ (১৯৭৪), ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ (১৯৭৮), ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ (২০০৯), ‘অমৃতের সন্তান’, ‘আবর্ত’, গদ্য ও সাক্ষাৎকার বিশেষভাবে স্থান পায়।
বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শহীদ কাদরী ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের পাশাপাশি রানু ফেরদৌস, অভিক সোবহান, রাজিয়া নাজমী, মমতাজ বেগম সুমি, মোশাররফ হোসেন, বেনজির শিকদার, নাসির শিকদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার পাশাপাশি শহীদ কাদরীর সাহিত্য ও জীবন নিয়ে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে মতবিনিময় ও ভাবনার আদান-প্রদান হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর পরিচালক ও সঞ্চালক নীরা কাদরী উপস্থিত সবাই এবং কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির ম্যানেজার শান্তে গেন্সসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Posted ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah