জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | 601 বার পঠিত
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আরো ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
১৭ আগস্ট রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপপুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের আরো ৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ রিপন, ঢাকা মহানগর উত্তর তৃণমূল শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন, নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সাদ্দাম শাকিল (২০), কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন মামুন (৪৭) এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১ নম্বর জালালাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ফকির মো. মারুফ রেজা (৫৪)।
উল্লেখ্য : ফ্যাসিষ্ট সরকারের দমন-পীড়নে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া শত শত নেতা-কর্মীর মুখে ঈদের আনন্দ ফেরাতে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে এক পরিচিত মুখ-পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল রিপন। অথচ তার অতীত ঘেঁটে দেখা যায় এক ভিন্ন রূপ। ইকবাল রিপন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ভিসায় পাড়ি জমান। ৪-৫ বছর পর সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর এক মার্কিন প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে তিনি পরকীয়ায় জড়ান। বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রকাশ্যে এলে ওই নারী বিপুল সম্পদের বিনিময়ে ইকবাল রিপনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই নারীর নামে থাকা ঢাকার জিগাতলায় ৪ শতাংশ জমির উপর তিনতলা বাড়িটিও তার দখলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নিজ গ্রাম ও পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে “সমাজসেবক” পরিচয়ে এলাকায় ফেরেন ইকবাল রিপন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, তার স্ত্রী’র আগের স্বামীর মেয়ের বিয়ে হয় সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদের ছেলের সাথে। এই সূত্র ধরেই রিপন নিজেকে কাজী ফিরোজ রশিদের “বিয়াই” হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবেই তিনি গড়ে তোলেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে আত্মসাৎ করার একাধিক অভিযোগ থাকলেও এখনো আইনের আওতায় আসেননি।
স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দলের দুঃসময়ে উনি পাশে ছিলেন, এটা ঠিক। তবে তার অতীত এবং সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শুনেছি সামনে তিনি মেয়র নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।
ইকবাল রিপনের উত্থানের এই গল্প যেমন এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক নাটকের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি রাজনীতিকে পুঁজি করে অবৈধ উপার্জনের বাস্তবচিত্রও তুলে ধরে।
Posted ৪:০৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah