জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 74 বার পঠিত
থোকায় থোকায় সবুজ আঙুর ঝুলছে গাছে — দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে যেন কোনো বিদেশি আঙুরবাগান। কিন্তু এটি বাংলাদেশের গাজীপুর মহানগরীর বিপ্রবর্থা গ্রামের একটি সাধারণ জমি। এখানেই এক বিঘা জমিতে ‘বাইকুনুর’ জাতের বিদেশি আঙুর চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগরা এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান (৬০)। প্রতিদিন জেলার নানা প্রান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ তাঁর এই অনন্য বাগান দেখতে ছুটে আসছেন।
রোকনুজ্জামান আগে থেকেই গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় পাঁচ একর ইজারা নেওয়া জমিতে মালটা, ড্রাগন ফল ও প্যাশন ফল চাষে সফলতা পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে নেমেছেন। বর্তমানে ওই জমির দুই শতাধিক গাছে সবুজ আঙুরের থোকা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় এখনই পাইকাররা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
বাগান ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম জানান, ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসে এবং মাত্র চার মাসের মধ্যেই আঙুর খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়। আর মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফলগুলো বেগুনি রং ধারণ করবে। স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এই আঙুরের ভালো চাহিদা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বাগান দেখতে আসা স্থানীয় ফয়সাল হোসেন বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি যে গাজীপুরেও এমন আঙুর চাষ সম্ভব। কিন্তু সরাসরি বাগানে এসে ফলন দেখে তিনি রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেছেন এবং এখান থেকে চারা নিয়ে নিজেও চাষ করার কথা ভাবছেন।
রোকনুজ্জামান জানান, করোনা মহামারির সময় থেকেই পেশাগত কাজের পাশাপাশি কৃষির প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। এই আঙুর বাগানে জমি তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও পরিচর্যা পর্যন্ত মোট চার লক্ষ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এই মৌসুমে দেড় থেকে দুই টন ফলন হবে বলে তিনি আশা করছেন এবং সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লক্ষ টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, এই গাছগুলো থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ফলন পাওয়া যাবে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে কৃষির মাধ্যমেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।
গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, বাগানটি পরিদর্শন করে তাঁরা ইতিমধ্যে রোকনুজ্জামানের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। তিনি জানান, আঙুর চাষের জন্য দোআঁশ ও জৈব সারসমৃদ্ধ উঁচু জমি সবচেয়ে উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির পথ সুগম হবে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় কৃষিবিদ রফিকুল ইসলামও মনে করেন, রোকনুজ্জামানের এই উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং যথাযথ সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Posted ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah