নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 195 বার পঠিত
কয়েকদিন আগে বিকেলে পৌরসভার পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি পানকৌড়ি! আমি অবাক হয়ে পাখিটির দিকে তাকিয়ে রইলাম। একবার ডুব দিয়ে শিকার না ধরে পানির উপর ভেসে ওঠে না এই পাখি। নিজের উদর পূর্তিতে এমনি দক্ষ এই শিকারী পাখি।
বর্তমানে নদীর তীরে পানকৌড়িকে ডুব দিতে এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। অথচ বছর ১০-১২ আগেও ঝাঁকে ঝাঁকে এ পাখিকে নদীতে খালে বিলে দেখা যেত। ঝোঁপঝাড় জঙ্গল, জলাশয়, পুকুর, খাল-বিল, ধানক্ষেত ও নদীতে কালো কুচকুচে পাখিটি শিকারের অপেক্ষায় থাকতেন শিকারিরা। এই পাখিকে গ্রামেই যাদের শৈশব কেটেছে তারা পানকৌড়ি বা ডুবুরি পাখি বলেন। পানি আর মাছ যেখানে। সেখানেই ছিল ওদের অবাধ বিচরণ। শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়াসহ খাদ্যের সংকট ও পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে গত ১০-১২ বছরে অস্বাভাবিক হারে হ্রাস পেয়েছে এই পানকৌড়ির সংখ্যা। পাখিদের আবাসস্থল দখল, পাহাড় কাটা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিধনসহ ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগের ফলে ডুবুরি পাখি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করেন পরিবেশবাদীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ বিপুল সংখ্যক হাইরাইজিং ভবন নির্মাণ, গ্রামাঞ্চলে বাড়ি ঘর তৈরীর জন্য জলাশয় ও নদী ভরাট, পাখির বাসস্থান সংকুচিত হওয়ায় পানকৌড়ি আজ বিলুপ্তির পথে।
তথ্যমতে, জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী বিলুপ্ত প্রাণীগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। বর্তমানে পানকৌড়ি তেমন দেখা মেলে না। হয়তো একদিন বিলুপ্তই হয়ে যাবে। তাই এখন থেকে বন বিভাগ চাইলে পাখিদের জন্য বিশেষ আবাসস্থলের ব্যবস্থা করতে পারেন। আমাদের এই জেলা হাওর বাওর, খাল,বিল, নদীসহ সবুজে ভরপুর। তাই হরেক রকমের পাখির সম্মিলিত জনপদের চিত্র ফুটে উঠে অতীত স্মৃতিতে। এ অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাসস্থানের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে কৃষি জমি, খাল-বিল, জলাশয়, নদী ও পুকুরের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। যে কৃষি জমি অবশিষ্ট আছে। সেখানে বিষ প্রয়োগের ফলে পোকামাকড়, মাছ, ব্যাঙ, সাপ কমে গিয়েছে। তারপর সীমান্তবর্তী উপজেলায় পাহাড় কাটা। গাছ কাটা। নদী ভরাটসহ পরিবেশ দূষণের পরিমাণ বাড়ছে দিন দিন। খাদ্যের সংকট ও পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে গত ১০-১২ বছরে ক্রমহ্রাসমান হারে কমতে শুরু করেছে পানকৌড়ির সংখ্যা। যেখানে পানকৌড়ির মাছ শিকারের নিয়মিত দৃশ্য দেখা যেতো। তা আর যেন চোখেই পড়ে না। স্থানীয়রা জানান, অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি তিতাস নদী আর নালা খাল বিলে ছিল পানকৌড়ির অবাধ বিচরণ ছিলো একসময়। সেই পানকৌড়িগুলো আজ যেন হারিয়েই গেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এই পাখি সংরক্ষণের বিধান থাকলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একেবারেই নীরব বলে স্থানীয়রা মনে করেন। পানকৌড়ি মূলত উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় বিচরণ করে। কিন্তু গত ১০-১২ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন ও বহু উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের কারণে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক আবহাওয়াা অতিমাত্রায় বেড়েছে। মূলত এই পাখি খাদ্য আহরণের জন্য পানির খুব গভীরে গিয়ে ছোট মাছ, শামুক ও বিভিন্ন শৈবাল শিকার করে থাকে। তবে, বর্তমানে এলাকার চারভাগের তিন ভাগ উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের বদৌলতে পানি শূন্য। বহু প্রজাতির পাখি প্রায় বিলুপ্ত। তার মধ্যে পানকৌড়ি একটি। পানকৌড়ির আবাসস্থল বিনষ্ট হয়ে গেছে। তথ্যমতে, পানকৌড়ি আমাদের অনেক উপকার করে। ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। তাদের বিষ্টা থেকে সার হয়। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া পানিতে পড়তে তা মাছের খাদ্য হিসেবে পরিণত হয়। পানকৌড়ি পাখি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হতে হবে।
Posted ৩:৪১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah