শুক্রবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যা করবেন গলা বসা প্রতিরোধে

অনলাইন ডেস্ক   |   বুধবার, ২৯ মে ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   300 বার পঠিত

যা করবেন গলা বসা প্রতিরোধে

কমবেশি সবারই গলার স্বর বসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। অনেক কারণে গলার স্বর বসে যেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গলা বসে যাওয়ার কারণ হলো শ্বাসনালিতে সংক্রমণ। কখনও আবার ঠান্ডা লাগলে কিংবা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা বললেও গলার স্বর ভেঙে যেতে পারে। সাধারণত একজনের ব্যক্তিত্ব কেমন, তার অনেকটাই নির্ভর করে কণ্ঠের ওপর। এ জন্য শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো প্রতিদিন কণ্ঠস্বরেরও যত্ন প্রয়োজন। কণ্ঠস্বরের যত্নে কয়েকটি কাজ করতে পারেন।
যেমন :
বিরত থাকতে হবে অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি থেকে। উচ্চ স্বরে বা অনেক জোরে কথা বললে ভোকাল কর্ডে মাইক্রোহেমোরেজ নামক সমস্যা হয়। এতে হেমাটোমা, ফ্রাইব্রোসিস হয়ে অনেক সময় কণ্ঠ পরিবর্তন হয়ে যায়।

অ্যালাৰ্জি থেকেও গলা বসার সমস্যা দেখা যায়। অনেক সময় কাশির কারণে ভোকাল কর্ড ফুলে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়।

ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। ধূমপান সরাসরি আক্রমণ করে গলার যে কোনো সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং জটিল করে তোলে। ফলে কণ্ঠনালির ক্ষতি করে।

অনেক সময় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাইরে থেকে এসেই হুট করেই আমরা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করি, যা গলার জন্য ক্ষতিকর। যাদের ঠান্ডা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে, তাদের বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা উচিত। এ ছাড়া ঘাম অনেকক্ষণ ধরে শরীরে থাকলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এর ফলেও গলা ভেঙে যায়।
পানিশূন্যতা গলা ভাঙার আরেকটি রিস্ক ফ্যাক্টর। অনেকে হয়তো সারাদিন কথা বলছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পান করছেন না। এতে কণ্ঠের ক্ষতি হয়।

দীর্ঘস্থায়ী স্বরভঙ্গের অন্যতম কারণ হলো কণ্ঠনালির ক্যান্সার। দেশে ক্রমে এটি বাড়ছে এবং ভোকাল কর্ডের ক্যান্সার এখন অনেক পাওয়া যাচ্ছে। তাই কারও যদি স্বরভঙ্গ তিন সপ্তাহের বেশি থাকে, তাহলে অবশ্যই নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভোকাল কর্ড বা কণ্ঠনালি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

পদ্ধতিগুলো হচ্ছে– ইনডাইরেক্ট ল্যারিংগোস্কপি/ ভিডিও ল্যারিংগোস্কপি। কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনে ব্যক্তির রোগের ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে গলা ভাঙার কারণ নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঠান্ডা লেগে যদি গলা বসে যায়, তবে কথা বলা বন্ধ করতে বা কমিয়ে দিতে হবে। কণ্ঠনালিকে বিশ্রাম দিতে হবে। গলা ভাঙা উপশমে এ ক্ষেত্রে ভালো পদ্ধতি হলো গরম বাষ্প টানা। ফুটন্ত পানির বাষ্প যদি দৈনিক অন্তত ১০ মিনিট মুখ ও গলা দিয়ে টানা হয়, তবে উপকার হবে। মেনথল ইনহেলেশনও ভোকাল কর্ডকে কিছুটা আর্দ্রতা দেয়।
লেখক : ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
রেজিস্ট্রার, নাক-কান-গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।

Facebook Comments Box

Posted ৫:১৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া