শুক্রবার ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একযুগেও সংস্কার হয়নি জাফর খালের লোহার সেতু, ঝুঁকি নিয়ে ৩–৪ হাজার মানুষের চলাচল

সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য :   |   শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

একযুগেও সংস্কার হয়নি জাফর খালের লোহার সেতু, ঝুঁকি নিয়ে ৩–৪ হাজার মানুষের চলাচল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার মেঘনাপাড়ের প্রাচীন পানিশ্বর বাজার। ব্রিটিশ আমল থেকেই বন্দর হিসেবে পরিচিত এই বাজারের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাফর খালের ওপর নির্মিত একটি লোহার সেতু। তবে নির্মাণের প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেতুটির বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৫ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগের দুরবস্থা দেখে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জাফর খালের ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্থানীয়রা অর্থ ও শ্রম দিয়ে কয়েকটি খুঁটির ওপর লোহার পাটাতন ও রেলিং বসিয়ে সেতুটি নির্মাণ করেন।

সেতুটি নির্মাণের পর পানিশ্বর বাজারের সঙ্গে আশপাশের গ্রামের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়। বর্তমানে শাখাইতি, দেওবাড়িয়া, নাইলা, তারাখলা, নয়াহাটি, আকবরহাটি, লায়েরহাটি, শোলাবাড়ি, সিমনা, কট্রাইল্লা, ডাংগি, তাজপুর, দুর্গাপুর ও বগুইড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাজারে পণ্য পরিবহনেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল, সফিক ও উছমান চৌধুরী জানান, সেতুটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো সংস্কার হয়নি। এতে সেতুটি ব্যবহারে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সেতুটির সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।

পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই জাফর খালের ওপর স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন আশ্বাসের পর ২০১৫ সালে তৎকালীন ইউএনও মোহাম্মদ এমরান হোসেনের উদ্যোগে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

তৎকালীন ইউএনও মোহাম্মদ এমরান হোসেন জানান, সেতুটি নির্মাণে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এর মধ্যে এলাকাবাসী প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেন। বাকি ১০ লাখ টাকার মধ্যে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ৪ লাখ এবং পানিশ্বর ইউনিয়নের এলজিএসপি থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমানো, দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ স্থাপন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের কথা বিবেচনা করেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছাদু মিয়া বলেন, সেতুটির লোহার প্লেট পরিবর্তনের জন্য সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ওই অর্থে প্লেট পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের সংস্কার হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া বলেন, সম্প্রতি পানিশ্বর বাজারসংলগ্ন লোহার সেতুটিতে সীমিত পরিসরে মেরামত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে সেতুটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে সেতুটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার জরুরি। এতে পানিশ্বর বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:১০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া