শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাচ্চাদেরও মানসিক সমস্যা হতে পারে?

অনলাইন ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   556 বার পঠিত

বাচ্চাদেরও মানসিক সমস্যা হতে পারে?

আপনার সন্তান কি হঠাৎ খুব অমনোযোগী হয়ে উঠেছে? স্কুলের কাজ সময়মতো শেষ করতে পারছে না? খেলাধুলাতেও তার মন বসছে না? হতে পারে পড়াশোনায় আরো ভালো করার চাপে সে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। এ সময় তাদের আচরণেও বদল আসে। কিন্তু বড়রা অনেক সময় দুষ্টুমি ভেবে তা এড়িয়ে যান। ফলে পরবর্তী সময়ে গিয়ে নানা রকম মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পূর্বে ডিপ্রেশন, মেন্টাল স্ট্রেসের মতো শব্দগুলোর সঙ্গে মানুষ তেমন পরিচিত ছিল না। কিন্তু ইদানীং ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও মানসিক অবসাদ লক্ষ করা যাচ্ছে। এর অনেক কারণ থাকতে পারে।

কী কী কারণে মনের চাপ বাড়ছে বাচ্চাদের

১। বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। স্কুল, বাড়ি সব জায়গাতেই বাচ্চাদের চাপ বাড়ছে। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেন্টাল স্ট্রেস।

২। আগে বাচ্চারা অনেক বেশি খেলাধুলা করত। কিন্তু এখন স্কুলের বাইরে একস্ট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি এতটাই বেশি করতে হয় যে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা, খেলাধুলার সময়ও থাকে না। ফলে বাচ্চাদের মধ্যেও একাকিত্ব বাড়ছে।

৩। বর্তমানে বাচ্চারা অনেক বেশি ডিজিটাল মাধ্যমে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সারা দিন ল্যাপটপ, মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকে। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের অনেক ব্যাপার তাদের নখদর্পণে চলে আসে। তাই কম বয়স থেকেই এমন অনেক বিষয় জেনে যাচ্ছে বাচ্চারা যা তাদের জানার কথাই না।

৪। খাদ্যাভ্যাসেও বদল আসছে। যখন তখন খাওয়া, অপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ঝোঁকে ওজন বাড়ছে বাচ্চাদের। ফলে তাদের শরীরের পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ব্রেনের পুষ্টিতেও কমতি হচ্ছে।

সমীক্ষা বলছে, পাঁচ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের মানসিক সমস্যা আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। নানা কারণে এ বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে ওসিডি, ডিপ্রেশন, প্যানিক অ্যাটাক, বাইপোলার ডিজঅর্ডারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্কুলে হেনস্তার শিকার, বাড়ির অসুস্থ পরিবেশ, মা-বাবার মধ্যে সমস্যা, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ইত্যাদি।

তবে মানসিক সমস্যার পেছনে সব সময়ে যে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকবে, এমনটা না-ও হতে পারে। বাড়ি, স্কুলে কোথাও কোনো সমস্যা নেই, তা-ও বাচ্চার মন খারাপ হতে পারে।

মানসিক রোগকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কমন মেন্টাল ডিজঅর্ডার, সিরিয়াস মেন্টাল ডিজঅর্ডার। বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা স্কিজোফ্রেনিয়া গুরুতর সমস্যা। এসব ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং, থেরাপি, ওষুধ সব কিছুরই প্রয়োজন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সমস্যার গভীরতা ও কারণ বুঝে চিকিৎসা পদ্ধতি স্থির করতে হবে। তবে তার আগে বাচ্চাদের মন ভালো রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই নিতে হবে। মানসিকতা, সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে উৎসাহ এবং মানসিক চাপ কমাতে সন্তানকে সাহায্য করতে হবে। মা-বাবাকে সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তার সঙ্গে খেলাধুলো করুন, ছবি আঁকুন। সাধারণত ছোটরা এই কাজগুলোর মধ্য দিয়েই নিজের মনের ভাব ফুটিয়ে তোলে।

কোনো নেতিবাচক মন্তব্য, খারাপ কথা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি বাচ্চাদের সামনে করা যাবে না। বাচ্চারা সব কিছুই খুব তাড়াতাড়ি শিখে নেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা থাকলে বাচ্চার সামনে কখনো ঝগড়া করবেন না। পরিবারের কোনো ঝামেলা বাচ্চাকে বুঝতে দেবেন না। এটা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলবে। প্রতিদিন অন্তত এক পাতা করে গল্পের বই পড়ার একটা অভ্যাস তৈরি করান। মোবাইল গেম, ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ছবি আঁকতে দিন। প্রতিদিন একটা করে নতুন অভিজ্ঞতা লিখতে বলুন। এতে যেমন তাদের মানসিক বিকাশ হবে, তেমনি মেধাও বাড়বে। সূত্র : দ্য ওয়াল

Facebook Comments Box

Posted ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া