সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 149 বার পঠিত
ঢাকার কমলাপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে মঙ্গলবার বিকেলে জমকালো আয়োজনে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ক্লাবের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। নিবন্ধন, আপ্যায়ন, আড্ডা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনভর চলে শিল্পীদের এই মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মাসুদ রানা ও সঞ্চালনা করেন কণ্ঠশিল্পী মিতুয়া হেমা। প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য গীতিকার ও সঙ্গীত গবেষক শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন ফুয়াদ নাসের বাবু, মকসুদ জামিল মিন্টু, পিলু খান, লাবু রহমান, সাঈদ হাসান টিপুসহ দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তার বক্তব্যে বলেন, মিউজিশিয়ানরা দেশের সবচেয়ে অবহেলিত একটি শ্রেণি। তাদের বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না কেউ, ব্যাংক লোন দিতে চায় না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমূলক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই উদ্যোগ শুরু হওয়া উচিত ছিল মিউজিশিয়ানদের মাধ্যমেই।
আসিফ আকবর আরও প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি চায় সন্তানেরা গান করবে, নাচ করবে, আবৃত্তি করবে—তাহলে কেন আবার গানবাজনা বন্ধের ডাক আসছে? তিনি জানতে চান, সংবিধানের কোন ধারায় সঙ্গীত নিষিদ্ধের বিধান রয়েছে?
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নানা অনিশ্চয়তায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অসংখ্য শিল্পী। অথচ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়েও মিউজিশিয়ানদের জন্য কোনো পেশাগত নিরাপত্তা তৈরি হয়নি। তিনি একের পর এক কনসার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন আসলে কার ভয়ে গান বন্ধ করছে?
আসিফ আকবর বলেন, সমতল ভূমির বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো সুযোগ নেই। ধর্ম ও সঙ্গীতকে পরস্পরবিরোধী দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার যদি সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নাচ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তাহলে শিল্পীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কনসার্ট হচ্ছে, সঙ্গীত হচ্ছে—এখানে কেন নয়?
শেষ দিকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি মিউজিশিয়ানদের আশ্বাস না দেয়, যখন তারা পেশাহীন হয়ে পড়বেন, তখন তারাও রুখে দাঁড়াবেন। তিনি আরও বলেন, যে দেশে সুর-সঙ্গীত নেই, সেখানে মাদকের বিস্তার ঘটবেই।
প্রধান অতিথি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ধর্মের নামে যারা সঙ্গীত বন্ধের চেষ্টা করছে, তাদের ধর্মীয় যুক্তিতেই জবাব দিতে হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সামরিক শাসনের মতো সঙ্গীতচর্চাকে মাঠ-ময়দান থেকে ঘরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।
বিশেষ অতিথি ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সর্বদা শিল্পীদের পাশে রয়েছে। তিনি নিজেকে মিউজিশিয়ানস পরিবারের অংশ হিসেবে দাবি করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো নানা প্রতিকূল পরিবেশেও তারা কনসার্ট করেছেন এবং ভবিষ্যতেও শিল্পীদের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করতে প্রস্তুত।
Posted ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah