অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 33 বার পঠিত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়েছে ৩৩৯টি বাড়ি, নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৫ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। ভূমিকম্পের পর ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘চ্যাম্পি’। ঝড়টির প্রভাবে ইতিমধ্যে একজন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন। বাতিল করা হয়েছে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। দুই দুর্যোগ ঘিরে উদ্ধার তৎপরতা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তিব্বতে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে শুক্রবার এনডিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। এতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আহত হয়েছেন ৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
ভূমিকম্পে বাড়িঘর ধসে পড়ার পর অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ রাস্তায় রাখা নিজেদের গাড়িতে অবস্থান করছেন। ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনীর ৩৪৭ জন কর্মীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল পার্বত্য এলাকায়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এটি নাগচু শহরের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় রেস্তোরাঁর কর্মীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন পণ্য নিচে পড়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো জানিয়েছেন, টাউনশিপ কার্যালয়েও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। এতে কার্যালয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘চ্যাম্পি’
এদিকে, শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘চ্যাম্পি’র আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। ঝড়টির প্রভাবে একজন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন। পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল ঝড়টি। এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার। ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় দ্বীপজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, ঝড়টির বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। ফলে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চ্যাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে যেতে পারে। পরে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গতিপথ পরিবর্তন হলে তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে।
ঝড়ের সতর্কতায় শুক্রবার তাইওয়ানের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সব কটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৯টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশটির আর্থিক বাজার। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
উপকূলীয় শহরগুলোতে মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে দমকা বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানী তাইপের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
Posted ৬:২১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah