নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 28 বার পঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রশাসনিক বঞ্চনার যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত ছয়টি গ্রামের মানুষের বুকে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন কবীর আহমেদ ভূঞা। কিন্তু সেই আলোকে নিভিয়ে দিতে, উন্নয়নের স্বপ্নকে চুরমার করে দিতে মাঠে নেমেছে ফ্যাসিস্ট আমলের দোসর ও এলাকার দুষর্দ গোষ্ঠী। তাদের চোখে-মুখে ভয়, কারণ এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সফল হলে তাদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও শোষণের সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
*বিরোধিতার নগ্ন চেহারা*
২ এপ্রিলের অবস্থান কর্মসূচিকে যারা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন বলে চালাতে চাইছেন, তাদের মুখোশ খসে পড়ছে। এটা কোনো জনআন্দোলন নয় — এটা ফ্যাসিস্ট যুগের সুবিধাভোগী দুষর্দদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দেড় যুগ ধরে যারা এই ছয় গ্রামের মানুষকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ঠেলে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ টিকিয়ে রেখেছে, তারাই আজ উন্নয়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। কারণ “বরিশল ইউনিয়ন” গঠিত হলে আর তাদের দরজায় দরজায় ঘুরে সুবিধা নিতে হবে না। মানুষ সরাসরি তাদের অধিকার ভোগ করবে। এই সত্যটাই তাদেরকে অস্থির করে তুলেছে।
*মুখোশের আড়ালে যারা*
চান্দি গ্রামের নেসার উদ্দিন — আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান — তার নেতৃত্বেই তিন শতাধিক মানুষকে রাস্তায় নামানো হয়েছে। তার সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া, যিনি সর্বশেষ নির্বাচনে মাত্র তিন হাজার ভোট পেয়ে জনগণের রায়ে চরমভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। আর আছে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ জামাল রানা — মোহামেডান ক্লাবের সঙ্গে জড়িত এই ব্যক্তি ফ্যাসিস্ট চক্রের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণে পলাতক জীবন কাটিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট যুগের পতনের পর আবারও মাঠে নেমে তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় জনগণ এখন তাদের আসল চেহারা চিনতে পেরেছে এবং তাদের প্রতি ক্ষোভ ও ঘৃণা দিন দিন বাড়ছে।
*ভৌগোলিক বাস্তবতা ও মানুষের যন্ত্রণা*
তিতাস নদীর ওপারে বিচ্ছিন্ন ছয়টি গ্রাম — বরিশল, বৈষ্ণবপুর, কোড্ডা, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি ও চান্দি। এখানকার মানুষের চোখের জল শুকায়নি। জন্মনিবন্ধন করাতে, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট আনতে, সামান্য প্রশাসনিক কাজে তাদেরকে প্রতিদিন ৩০ কিলোমিটার দূরের সদর উপজেলায় ছুটতে হয়। অথচ তাদের স্কুল, কলেজ, হাটবাজার, ডাকঘর — সবকিছুই আখাউড়ার সঙ্গে জড়িত। ভৌগোলিকভাবে, সামাজিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে তারা কখনো সদরের অংশ ছিল না। শুধু কাগজে-কলমে একটা অসংগতির শিকার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা ভোগ করছে।
*কবীর আহমেদ ভূঞা — দেশমাতৃকার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক স্বপ্নদ্রষ্টা*
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন কবীর আহমেদ ভূঞা। কিন্তু সেই নির্যাতনও তাঁর দেশপ্রেম ও জনসেবার আগুন নিভাতে পারেনি। দেশমাতৃকার একজন নিবেদিত সহচর, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও আত্মত্যাগী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাতৃভূমির উন্নয়নের স্বপ্ন লালন করে আসছেন। বিএনপির নিষ্ঠাবান কর্মী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে তিনি আজ এই ছয় গ্রামের মানুষের প্রশাসনিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগে সরকার ইতিমধ্যে দ্রুত সাড়া দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে প্রস্তাব গ্রহণ করে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
*জনগণের হৃদয়ের কথা*
ছয় গ্রামের সাধারণ মানুষ আজ এক কণ্ঠে বলছেন, “আমরা আর ৩০ কিলোমিটার দূরে ছুটতে চাই না। আমাদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট — সবকিছু যেন ঘরের কাছে হয়। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।” তাদের চোখে-মুখে আশা আর আবেগ মিশে আছে। অন্যদিকে বিরোধিতাকারীরা মূলত বাসুদেব ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের কিছু লোক, যাদের এতে কোনো ক্ষতি নেই। পুরনো দুষর্দ মহল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।
*নতুন স্বপ্নের উষালগ্ন*
উন্নয়নের দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে কৃষ্ণনগর, বনগজ, ভবানীপুর, দুর্জয়নগর, দুবলা ও জারুইলতলা গ্রামের মানুষও নতুন আলো দেখছেন। তারা ইতোমধ্যে বরিশল ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। বহু বছরের অবহেলিত এই মানুষেরা বিশ্বাস করেন, এই ইউনিয়ন শুধু তাদের জীবন বদলে দেবে না, সারা বিশ্বের কাছে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
*পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য*
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট দোসরদের এই শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হবেই। জনগণ এখন সচেতন। কবীর আহমেদ ভূঞার নির্ভীক উদ্যোগের পক্ষে জনমত দ্রুত সংগঠিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি দাবি — ফ্যাসিস্ট দোসরদের অপপ্রচারে কান না দিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে ছয় গ্রামের প্রকৃত জনমতের ভিত্তিতে “বরিশল ইউনিয়ন” গঠন করুন। কারণ এই ইউনিয়ন হবে শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয় — এটি হবে দেশমাতৃকার উন্নয়নের এক উজ্জ্বল আদর্শ, যা সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
উন্নয়নের চাকা কোনো ষড়যন্ত্রই থামাতে পারবে না। জনগণের অধিকার, জনগণের স্বপ্ন একদিন না একদিন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
Posted ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah