আরিফুর রহমান | মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | 221 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই নামধারী সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের জারুইলতলা গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার সকালে তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জারুইলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
মোহাম্মদ জহিরুলের বাবা আবু জামাল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের জারুইলতলা গ্রামে জহিরুলের বাড়িতে যান নামধারী সাংবাদিক। দুই নামধারী সাংবাদিকের সাথে মুক্তিযোদ্ধা আবু জামালের কথা হয়। এক পর্যায়ে তারা আবু জামালের বাড়ি যান। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আবু জামাল। এক পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জামাল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন নথিপত্র দেখালে সেগুলোর ছবি মোবাইল ফোনে তুলেন দুই কথিত সাংবাদিক।
সাক্ষাৎকার শেষে কমান্ডার সনদপত্র কোথায় জানতে চান তারা। এমন কোনো সনদ হয় না বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জামাল জবাব দেন। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা জামালকে আড়ালে নিয়ে যান আটক দুইজনের একজন। এসময় কথিত সাংবাদিকদের একজন দেশের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা না দিলে মুক্তিযোদ্ধার নাম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় দিয়ে দিবে বলে ভয় দেখান উজ্জ্বল। মুক্তিযোদ্ধা এক পর্যায়ে কথিত সাংবাদিক উজ্জ্বলকে ৫ হাজার টাকা দেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মোহাম্মদ জহিরুল স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তাদের আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারেন তারা ভুয়া সাংবাদিক এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা চাঁদাবাজি করেন।
পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে তারা সহায়তা চান। রাতে পুলিশ পৌঁছে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রোববার সকাল ১১টায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রশাসনের এই তরিৎ হস্তক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
কতিপয় নামধারী সাংবাদিকদের কার্ড নিয়ে ব্যবসা, চাঁদাবাজীর ঘটনা উদ্বেগের। মূলধারার পরিশ্রমী সাংবাদিকদের জন্য এটা লজ্জার। একটি মহৎ পেশাকে যারা কুলষিত করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ এই নামধারী কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রামের সরল সহজ মানুষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হয়রানী করে। অর্থ আদায় করে। এদের বিরোদ্দে মূল ধারার সাংবাদিকদেরকে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। এই পেশার সম্মান রক্ষার্থে এটা করা আমাদের জন্য সময়ের দাবি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব আশা করছি এবিষয়ে সবসময়ই বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে, এই পেশার উৎকর্ষ সাধনে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করবে।
কোনো ধরণের ভুয়া কথিত বা নামধারী লেবাসধারী সাংবাদিক যেনো এই সাংবাদিক শব্দটিকে কুলষিত করতে না পারে, সেদিকে সকল সাংবাদিকদের নজর রাখতে হবে। এটা সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের দাবি।
Posted ৪:০৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah