মঙ্গলবার ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে মশক নিধনে ১০ কোটি, তবু বাড়ছে ডেঙ্গু

আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর :   |   মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

গাজীপুরে মশক নিধনে ১০ কোটি, তবু বাড়ছে ডেঙ্গু

গাজীপুরে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। মশক নিধনে চলতি অর্থবছরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৭ জন। এ সময় ২৭ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছর এ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৩৯ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৭৫ জন।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৪৮টি এবং শিশু বিভাগে আটটি শয্যা রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নির্ধারিত শয্যার পাশাপাশি মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। শয্যা পাওয়া নিয়ে রোগী ও স্বজনদের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দালাল ও হাসপাতালের কিছু স্টাফের মাধ্যমে টাকা দিলে কাঙ্ক্ষিত শয্যা পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগীকে মশারি ছাড়াই হাসপাতালে থাকতে দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশারির মধ্যে রাখা জরুরি। কারণ এডিস মশা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর অন্য ব্যক্তিকে কামড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম বলেন, অন্যান্য বছর জুন-জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি থাকলেও এবার আগস্টে প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন ও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের মশারির নিচে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে না পড়ে। হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার প্রয়োজনীয় মশারি, স্যালাইন ও ওষুধের সরবরাহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া কড্ডা, কোনাবাড়ী, গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত শনিবার পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫২২ জন ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন নালা-নর্দমা ও ময়লা-আবর্জনার কারণে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। অথচ মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়। অনেক এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাওজোড় এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ বলেন, চলতি বছর এলাকায় মশক নিধনের কোনো ওষুধ ছিটাতে দেখেননি তিনি। ফলে মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

কড্ডা এলাকার বাসিন্দা ও ডেঙ্গু আক্রান্ত নাসিমা বেগম বলেন, তাঁর এলাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়নি। এতে সন্তানদের নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।

তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, চলতি অর্থবছরে মশক নিধনে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নালা পরিষ্কার, কীটনাশক ছিটানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কোথাও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, আবার কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাজীপুরেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

Facebook Comments Box

Posted ২:২০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া