জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 122 বার পঠিত
প্রতীকি ছবি
গাজীপুর সদর ও দ্বিতীয় যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক, নকলনবিস ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে চলছে ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতি। অফিসের ওমেদার (সহকারী) মিন্টু ও তার জামাই সোহেল এবং হুমায়ুনের নেতৃত্বে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সেবাপ্রার্থীদের কাছে নিয়মিত হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। অফিসের কর্তৃপক্ষ ও সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে গেলেও ঘুষের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি দলিলে বাধ্যতামূলক ২ হাজার ৫০০ টাকা ও প্রতি লাখে ১৫০ টাকা হারে ঘুষ দিতে হয়। পাওয়ার দলিলের ক্ষেত্রে দিতে হয় ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, দানপত্র দলিলে ৩ শতাংশ এবং ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ঘুষ দিতে হয়। এর বাইরেও রয়েছে নানা গোপন ঘুষের লেনদেন। ওমেদার মিন্টুকে এই চক্রের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান হয়েছে। সেখানে ১৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিলে গাজীপুর সদরের দুটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুদকের অভিযানে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মেলে। ২০২৪ সালের মার্চে গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে।
শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দুদক ইতিমধ্যে চার সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে গাজীপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বর্তমান দুর্নীতির এই চিত্র নিয়ে এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী ও সেবাপ্রার্থীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Posted ৩:১৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah