আরিফুর রহমান | রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | 222 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মনোমুগ্ধকর লাঠি খেলা। লাঠি খেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। খেলায় ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘন্টার শব্দে চারপাশে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ্যের তালে তালে নেচে নেচে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে তরুণ ও বর্ষিয়ান লাঠিয়ালরা। তারপরই চলে লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তাকে আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা।
গত বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়েনের তেরোকান্দা গ্রামের একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন খেলা। এসব দৃশ্যদেখে আগত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে উৎসাহ যোগায় খেলোয়াড়দের। কালক্রমে হারিয়ে যাওয়া লাঠি খেলা দেখতে ভিড় করে নানা বয়সের নারী-পুরুষ। গ্রামীন এ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাকে টিকিয়ে রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এমনটাই মনে করেন দর্শনার্থীরা। বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলা লাঠিখেলায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েকটি লাঠিয়াল বাহিনী অংশগ্রহণ করে।
লাঠি খেলায় স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত তারাই ছিলেন এই খেলার আয়োজক। লাঠিখেলা একটি নির্মল দেশীয় বিনোদন। এবং এটা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রাচিনতম নিদর্শন।
হাতের মুঠোই বিনোদন চলে আসার পর থেকে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির অনেকটাই আজ বিলুপ্তির পথে। এসব বিলুপ্ত প্রায় সংস্কৃতিকে যাঁরা শ্রম দিয়ে অর্থ দিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন তাঁরা এই জাতির প্রতি, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এটা করছেন। এভাবে আমাদের স্বউদ্যোগে দেশীয় সংস্কৃতির লালন, বিকাশ ও ত্বরান্বিত করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, লাঠিখেলা, মোরগ লড়ই, ঘোড়াদৌড়ের মতো দেশীয় সংস্কৃতি গুলো নির্মল আনন্দ দেয়। এখানে অশ্লিতার কোনো জায়গা নেই। আর এজন্যই এসব টিকে আছে যুগের পর যুগ।
আমরা চাই এসব সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে মানুষে মানুষে গড়ে উঠুক সম্প্রীতি, সহাবস্থানের মহামিলন। যেখানে কোনো হিংসা বিদ্বেষ লোভ বাসা বাঁধতে পারবে না। মানুষ শুধুই মানুষের মতো বাঁচবে। মানুষ শুধুই মানুষের আচরণ করবে। মানুষ হবে অবকল মানুষ- কোনো ফটোকপি নয়। নয় কোনা মুখোশ।
Posted ৩:৩৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah