সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 0 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে একটি চায়ের দোকান ঘিরে গড়ে উঠেছে ভিন্নধর্মী এক আকর্ষণ। ‘আশিক টি শপ’-এ মিলছে ২৬০ ধরনের চা। ব্যতিক্রমী স্বাদের এসব চা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দোকানটির উদ্যোক্তা আশিক মিয়া। তার দোকানে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চা-প্রেমীরা।
দুধ চা ও লিকার চায়ের বাইরে মশলা, ফল, বাদাম, তেঁতুল, ভেষজসহ নানা উপাদানে তৈরি করা হয় বিভিন্ন স্বাদের চা। সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এসব চায়ের স্বাদ নিতে আসেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসের অনেক যাত্রীও এখানে নেমে চা পান করেন।
সুসজ্জিত পরিবেশে সাজানো দোকানটিতে বর্তমানে কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ দর্শনার্থী আসেন এবং দৈনিক বিক্রি হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চা ও কফি।
দোকানটির জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শাহী মালাই, চকলেট মালাই, সাধারণ মালাই, বাদামি চা, তুর্কি চা, ডায়াবেটিক চা, রোজেলা, মাল্টা, তেঁতুল, মসলা চা, বুলেট কফি ও তুর্কি ব্ল্যাক কফি।
আশিক জানান, ইউটিউব দেখে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রেসিপি শিখে দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নতুন নতুন স্বাদের চা তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, “ইউটিউব আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। বিভিন্ন দেশের চায়ের রেসিপি দেখে নিজে চর্চা করেছি। এখন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ শুধু আমার চা খেতে আসেন, এটিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
২০০৬ সালে শাহবাজপুরের দ্বিতীয় গেট এলাকায় ছোট পরিসরে দোকানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজে উচ্ছেদের কারণে ২০২৩ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তর করা হয়।
দোকানে প্রতি কাপ চায়ের দাম ১০ থেকে ১০০ টাকা। কফির দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। শাহী মালাই চায়ের দাম ১০০ টাকা, চকলেট মালাই ৮০, সাধারণ মালাই ৬০, রোজেলা ৫০, তেঁতুল ও লেমন-মাল্টা ৪০ এবং মসলা চা ২০ টাকা।
শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে উপচে পড়া ভিড় থাকে। উৎসব-পার্বণে বসার জায়গাও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এটি শুধু একটি চায়ের দোকান নয়, বরং আড্ডা ও মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা আশিক মিয়া পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে ব্যবসায় নামেন। ছোটবেলা থেকেই চায়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ থেকেই একের পর এক নতুন স্বাদের চা তৈরি করতে করতে বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে ২৬০ ধরনের চা। এই ব্যবসার আয়েই পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “এ ধরনের স্থানীয় উদ্যোগকে পর্যটন সম্ভাবনার অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে।”
শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আইয়ুবুর রহমান বলেন, “আশিকের চা এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও আমরা এই স্থানটি বেছে নিই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, “প্রতিদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এখানে প্রাণবন্ত মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।”
শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মনির হোসেন বলেন, “আশিক একজন সফল উদ্যোক্তা। তার সাফল্য এলাকার তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করবে।”
Posted ৩:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah