জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 44 বার পঠিত
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মানসুরাবাদ এলাকায় গজারি বনের গহীনে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সিসা উৎপাদনের একটি কারখানা। পুরোনো ও ভাঙা ব্যাটারি পুড়িয়ে সেখানে সিসার ব্লক তৈরি করা হচ্ছিল। এতে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই কারখানার চারটি চুলায় ব্যাটারি গলিয়ে সিসা উৎপাদন করা হতো। এর ফলে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত ঝাঁঝালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ। এর আগেও একই স্থানে কয়েকবার সিসা তৈরির কারখানা স্থাপন করা হলেও জনরোষের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত রোববার থেকে নতুন মালিকানায় আবারও কারখানাটি চালু করা হয়।
জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা থেকে পশ্চিমে কালিয়াকৈর সড়কের শিমলাপাড়া ও শালদহপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত ইদ্রিছ পার্কের ভেতরে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়। চারদিকে গজারি বন এবং প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রয়েছে লোকালয়।
জমির মালিক ইদ্রিছ আলী বলেন, মালপত্র সংরক্ষণের কথা বলে একজন তার কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নেন। সেখানে সিসা উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করা হবে, তা তিনি জানতেন না।
স্থানীয়দের দাবি, বগুড়ার নজরুল ইসলাম টুটুল সম্প্রতি জায়গাটি ভাড়া নিয়ে সিসা উৎপাদন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতে ব্যবহৃত চারটি চুলা থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। সেখানে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শ্রমিকরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ভাঙা ব্যাটারি গলিয়ে সিসার বার তৈরি করা হয়, যা পরে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।
কারখানার মালিক নজরুল ইসলাম টুটুল বলেন, কয়েকদিন আগে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে তিনি এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এদিকে, কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই। উপজেলা প্রশাসন কিংবা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকেও কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, সিসা উৎপাদনের এ ধরনের কারখানা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সিসা মানবদেহে প্রবেশ করলে তা রক্তের সঙ্গে মিশে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মনোযোগের ঘাটতি, শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগের কারণও হতে পারে।
বুধবার বিকেলে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা মালামাল ১৩ লাখ ১৬ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযানের আগেই কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, কারখানাটির বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। পরিবেশের জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি পুনরায় চালু হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে হবে।
Posted ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah