জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ঢাকা-গাজীপুর সড়কে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিল করে সড়কটিকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারি টানা ছুটির আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরকার বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু এটি পলিসি সিদ্ধান্ত, তাই মন্ত্রিসভার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছি।’
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনার চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা সমীচীন। একই সঙ্গে দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সওজের আওতায় আনতে হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
২০১২ সালে অনুমোদন, ব্যয় বেড়েছে প্রকল্পের
গাজীপুরের শিববাড়ি থেকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত বাস চলাচল নিশ্চিত করতে। ২০১২ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
২০১৬ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে বিআরটি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের আওতায় বিআরটি লেন, স্টেশন, উড়ালসড়ক, টঙ্গী সেতু ও বাস ডিপোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় কাজের গতি ব্যাহত হয়। দীর্ঘসূত্রতার পর ২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে।
দীর্ঘদিনের নির্মাণজট ও ভোগান্তির পর এবার বিআরটি অবকাঠামো সরিয়ে ঢাকা-গাজীপুর সড়ককে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
Posted ৪:১২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah