নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 48 বার পঠিত
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (BMF)।
তবে এবার যেন অতীতের মতো শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেটের প্রভাব না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
BMF-এর দাবি, কর্মী পাঠানোর আগে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, কম খরচের, নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহী। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য বা ন্যূনতম ব্যয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান BOESL-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে BMF।
‘কতজন গেলেন’ নয়, গুরুত্বপূর্ণ কী?
BMF বলছে, শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন—এ হিসাব দিয়ে শ্রমবাজার চালুর সাফল্য বিচার করা যাবে না।
কর্মী কত টাকা খরচ করে গেলেন, চাকরি ও বেতন নিশ্চিত ছিল কি না, কর্মপরিবেশ কেমন এবং বিপদে পড়লে প্রতিকার পেলেন কি না—এসব বিষয়ই সাফল্যের আসল মাপকাঠি হওয়া উচিত।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে নতুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ রয়েছে।
এর আগে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব, প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া এবং শ্রমিক হয়রানি ও শোষণের নানা অভিযোগ সামনে আসে।
‘শ্রমিকের পকেট খালি করে নয়’
BMF-এর চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে হবে, কিন্তু অতীতের মতো শ্রমিকের পকেট খালি করে নয়; শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই।”
BMF-এর ১০ দফা দাবি
১. নিয়োগ ব্যয় শূন্য বা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে Employer Pays Principle বাস্তবায়ন।
২. প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া, নিয়োগকর্তা, বেতন ও চাকরির শর্ত প্রকাশ।
৩. সরকারি অনুমোদনের আগে কর্মীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া বন্ধ এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
৪. চাকরি নিশ্চিত না করে কর্মী পাঠানো বন্ধ; বেতন, কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম ও আবাসনের শর্ত লিখিতভাবে জানানো।
৫. নিয়োগে কোনো সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তৈরি হতে না দেওয়া।
৬. নিয়োগকর্তার প্রকৃত চাহিদা, বৈধতা, বেতন দেওয়ার সক্ষমতা ও শ্রম অধিকার রেকর্ড যাচাই।
৭. বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা ও জরুরি আইনি সহায়তা চালু।
৮. আগে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
৯. নীতিনির্ধারণে অভিবাসী অধিকার সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি, গবেষক ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করা।
১০. শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা দূর করতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও জবাবদিহিমূলক শ্রম অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলা।
BMF মনে করে, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সাফল্য “কতজন কর্মী পাঠানো হলো” দিয়ে নয়; বরং “কতজন নিরাপদ, ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন”—তা দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।
সরকারের প্রতি সংগঠনটির আহ্বান, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে উন্মুক্ত জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে শ্রমিকবান্ধব নিয়োগ কাঠামো ঘোষণা করা হোক।
BMF-এর বার্তা—বিদেশে কর্মসংস্থান হোক, প্রতারণা নয়; অভিবাসন হোক, ঋণের বোঝা নয়; নিয়োগ হোক, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়।
Posted ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah