জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 162 বার পঠিত
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের গাছায় দুই মাদরাসাছাত্রকে মারধরের পর আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকার আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর মাদরাসায়। নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) ও শিক্ষক মো. শাহিন (১৯)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলো ১৩ বছর বয়সী মো. বায়েজীদ ও বোরহান আলী। তারা ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদরাসা মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করার সময় এক ছাত্রের পায়জামা খুলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বায়েজীদকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব তাকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। পরে আগুনে গরম করা লোহার খুন্তি দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
পরদিন বায়েজীদ বাড়িতে গেলে তার বাবা নাজমুল মিয়া দেখতে পান, ছেলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছে না। নিতম্বে ওষুধ লাগাতে গেলে বায়েজীদের আপত্তির পর জোর করে দেখতে গিয়ে আগুনে পোড়ার স্পষ্ট দাগ দেখতে পান তিনি।
অপর শিক্ষার্থী বোরহান আলীর বাবার অভিযোগ, একই ঘটনার জেরে তার ছেলেকেও একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। তার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। পরে পোশাক খুলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধরের পাশাপাশি গরম লোহার খুন্তি দিয়ে তলপেট, উরু ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
বোরহানের বাবা আরও জানান, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় গেলে তাকে বলা হয়, বোরহানকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইবকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী বোরহানের বাবার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে।
Posted ৭:১৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah