সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ, লালন দর্শনে মুখর সাউথ ওজন পার্ক

আরিফুর রহমান আরিফ :   |   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   23 বার পঠিত

নিউইয়র্কে ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ, লালন দর্শনে মুখর সাউথ ওজন পার্ক

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলার মাটি, মানুষ ও শেকড়ের সংস্কৃতিকে ধারণ করে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ। লালন সাঁইজির গান, মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও লোকসংস্কৃতির আবহে আয়োজনটি পরিণত হয় বাঙালি সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে ‘মাটির গান’-এর সদস্যদের বাসভবনে এ সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান তবলা শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবু চৌধুরী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, প্রজ্ঞা নিউজের নির্বাহী সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী জালাল এবং সংগীতশিল্পী সূপর্ণা সরকার রিমি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘মাটির গান’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালক, বাংলাদেশ ও নিউইয়র্কের জননন্দিত বাউলশিল্পী মো. শাহীন হোসেন। পরে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

সাধুসঙ্গের মূল আকর্ষণ ছিল ফকির লালন সাঁইজির গান। ‘মাটির গান’-এর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় লালনের মানবতাবাদী দর্শন, প্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গান পরিবেশন করেন খৃষ্টিলা কুইয়া, তুলি বিশ্বাস, মলি ডেসা ও মহুয়া ভট্টাচার্য। তবলায় ছিলেন দেবু চৌধুরী, কিবোর্ডে রবিউল ইসলাম এবং পারকেশনে সুমন। অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন সূপর্ণা সরকার রিমি। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন কবিতা সরকার।

লালন দর্শনের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা। জাতপাত, ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মর্যাদা ও মুক্তির কথা বলে এ দর্শন। সেই মানবিক বার্তা প্রবাসের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নিউইয়র্কে বাংলা লোকসংগীত ও বাউল সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ও উঠে আসে আয়োজনে।

আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বসবাস করলেও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলার লোকঐতিহ্য, বাউলগান ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করা জরুরি। ‘মাটির গান’-এর এ আয়োজন সেই সাংস্কৃতিক দায়িত্ব পালনেরই একটি প্রয়াস।

অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অমিত বিশ্বাস ও জসিম উদ্দিন। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং শিল্পী-অতিথিদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে ঘরোয়া, প্রাণবন্ত ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যে সমৃদ্ধ।

শেষপর্বে ছিল আন্তরিক আড্ডা ও সুস্বাদু খাবারের আপ্যায়ন। গান, দর্শন, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের আবহে শেষ হয় ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ।

নিউইয়র্কের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের ভিড়ে ‘মাটির গান’-এর এ সাধুসঙ্গ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি শুধু গান শোনার আয়োজন নয়; বরং লালন দর্শনের মানবিক বাণী, বাংলার লোকঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে প্রবাসের মাটিতে নতুন করে ধারণ করার একটি সাংস্কৃতিক প্রয়াস।

Facebook Comments Box

Posted ২:১৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ছয় পায়ের কুকুর
(633 বার পঠিত)
পাত্র চাই
(450 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া