আরিফুর রহমান | শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | 188 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কের কাজে যুক্ত ছিলেন ভারতীয় একটি একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-আখাউড়া মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের কাজ। গত ৫ আগস্ট এর পর ফোরলেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ফেলে চলে যায় প্রকল্পে কর্মরত ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। এর ফলে চট্টগ্রাম-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। খানাখন্দে ভরপুর নির্মাণাধীন মহাসড়কে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলছে মালপত্র ও যাত্রীবাহী যানবাহন। সার্বক্ষণিক যানজট লেগে থাকার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। এদিকে প্রকল্পের কাজ আবার কবে শুরু হবে তা যখন নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। ঠিক সেই সময় এলো একটি সুখবর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদ্য যোগদানকারী জেলা প্রশাসক গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকদের সাথে প্রেসক্লাবে মতবিনিময় কালে এই সুখবরটি দেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশিষ্ট দপ্তরে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে ছিলেন। সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা চারলেন সড়কের বাকি কাজগুলো সরকারি অর্থায়নে করার অনুমোদন দিয়েছেন। তাই অতি দ্রুতই চারলেন সড়কের অসমাপ্ত কাজ শুরু হবে।
এই সংবাদটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর জন্য অতিশয় আনন্দের। কারণ, আখাউড়া-আশুগঞ্জ সড়কটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাজ বন্ধ থাকায় চালক, যাত্রী এবং স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খানাখন্দ সড়কের কারণে প্রতিদিনই ঘাটুরা, বিরাসার, পৈরতলা, পুনিয়াউট, রাধিকা এলাকায় যানজট লেগে থাকে। এতে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, সড়কের তীব্র ধুলার কারণে আশপাশের বাসা বাড়িঘর বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে সড়কের পাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হওয়ার পর ভারতীয় নমনীয় ঋণ এলওসির অধীনে ২০১৮ সালে তিনটি প্যাকেজে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত দুই লেন থেকে মহাসড়কটি চারলেনে উন্নয়ন কাজ শুরু করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। প্রকল্পটির কাজ শুরুর পর ২০১৯ এবং ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে প্রকল্পটির কাজ অনেকটাই থমকে যায়। পরবর্তীতে বালু সঙ্কটের কারণে আরো ৬ মাস বিলম্ব হয় নির্মাণ কাজের। এরপর ২০২২ সালে প্রকল্পটির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর অধীনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জের গোলচত্বর থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত একপাশের দুই লেনের কাজ মোটামুটি শেষ হয়। প্যাকেজ-২ এর অধীনে বিশ্বরোড থেকে ধরখার পর্যন্ত এক পাশের কাজ অনেকাংশেই শেষ হয়েছে।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর বাইপাস, ঘাটুরা বিরাসার, পৈরতলা, রাধিকা ও উজানিসার এলাকায় মহাসড়কের একপাশে খানাখন্দ থাকায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলরত যানবাহন চালক এবং যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
শেষ কথা হলো এই জেলার এবং আশেপাশের বেশ কয়েক জেলার লাখ লাখ মানুষ আজ অসমাপ্ত ফোরলেন সমস্যায় জর্জরিত থাকাবস্থায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সুখবরটি একটি ইতিবাচক সুসংবাদ। আমরা এইরকম তরিৎকর্মা জেলা প্রশাসকের কাজের সফলতা কামনা করছি।
Posted ৩:৪৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah