সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য | শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যদি তাকে দলে ফিরিয়ে নিতে চায়, তাহলে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদেরও দলে নিতে হবে—এমন শর্তের কথা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। এতে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩৮ হাজারের বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতীকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালনের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। পারিবারিক কারণে একসময় শহুরে জীবনে চলে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আবার সেই শখে ফিরেছেন। অবসর সময় তিনি হাঁস-মুরগির সঙ্গেই কাটান। এই আবেগ থেকেই তিনি ‘হাঁস’ প্রতীক বেছে নেন বলে জানান।
জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা সহজ ছিল না। নিজের চেয়েও বেশি কঠিন সময় পার করেছেন তার নেতাকর্মীরা। গত ১৭ বছর ধরে তারা নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অনেকেই বাড়িতে থাকতে পারেননি এবং বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি না জিতলে হয়তো ঢাকায় ফিরে গিয়ে আবার পেশাগত জীবনে যুক্ত হতাম। কিন্তু আমার কর্মীরা কোথায় যেত? তাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমি কীভাবে শোধ করব?”
ভোটগ্রহণের দিন অনিয়মের অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির চেষ্টা এবং ফলাফল বিলম্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে গিয়ে তিনি নিজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলেও উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হলে কাজের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “আবার যদি ভোটে দাঁড়াতে হয়, কাজই হবে একমাত্র ভরসা।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিপক্ষে তার পক্ষে কাজ করায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ নেতাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
Posted ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah