আরিফুর রহমান | রবিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 284 বার পঠিত
প্রকৃত শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ডকে সঠিক ভাবে পরিচালিত করতে শিক্ষকদের কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্যই শিক্ষার প্রতি আমাদের সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ বিষয়ে অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুলের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, মূল্যস্ফীতির এই সময়ে শিক্ষকদের জন্য একটু বাড়তি সুবিধা দিলে তাতে রাষ্ট্রের বরং উপকারই হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষাটা একটি গাছের শেকড়ে মতো। শেকড় যদি ভালো থাকে, পরিপুষ্ট থাকে, মজবুত থাকে তাহলে বৃক্ষের উপরিঅংশ অবশ্যই ভালো হবে।
নেট দুনিয়ায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, লুক্সেমবার্গ, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং বেশি বেতনের চাকরিগুলোর একটি। আর এদিকে বাংলাদেশে তা একেবারেই পেছনের সারিতে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেতনের পরিমাণের দিক থেকে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় সপ্তম। এদেশের প্রাথমিকের শিক্ষকদের গড় বেতন ১৭০ ডলার ২ সেন্ট, যা দেশের মাথাপিছু গড় মাসিক আয়ের তুলনায় প্রায় ৬২ ডলার কম।
সূত্রমতে, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। এ গ্রেড অনুযায়ী তাদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ সর্বসাকল্যে পান সাড়ে ১৯ হাজার টাকার মতো। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত হচ্ছে প্রাথমিক স্তর। বিশ্বব্যাংক ও ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো তাই প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সব সময় গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
দেশের বেশকিছু সেক্টরে যখন সংস্কার চলছে, তখন এই সেক্টরটাই বা অবহেলিত থাকবে কেনো। আমরা চাই যৌক্তিক দাবি গুলো সরকার বিবেচনায় নেয়া হউক। আমাদের শিক্ষকরা ভালো থাকুক- তারা ভালো থাকলে শিক্ষার ভিত ভালো থাকবে।
Posted ৪:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah