অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 186 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে কৃষি জমির উৎপাদন বাড়াতে প্রথমবারের মতো জমিতে ডলোচুন প্রয়োগ করা হয়েছে। উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে এক বিঘা করে ২০ বিঘা জমিতে ডলোচুন প্রয়োগ করা হয়। ডলোচুন হচ্ছে এক ধরনের সাদা পাউডার যা মূলত কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় মাটির অতিরিক্ত অম্লতা (এসিডিটি) কমাতে এবং মাটির গুণগত মান উন্নয়ন করে ফসলের ফলন বাড়াতে। এটি ডলোমাইট নামক খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং এতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা মাটির পিএইচ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। ডলোচুন বিশেষত গম, ভুট্টা, আলু, ডাল ও সবজির মতো ফসলের জন্য উপকারী।
জানা যায়, কৃষি জমিতে সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গত ৪ দশক ধরে রাসায়নিক সারের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। ফলে মাটিতে অম্লতা দেখা দিয়েছে। মাটির অ¤øতা এবং ক্ষারীয় পরিমাপ করা হয় পিএইচ মাত্রা দিয়ে। যা শুরু হয় ০ থেকে ১৪ মাত্রা দিয়ে।
পিএইচ মাত্রা যদি সাতের কম হয় সেই মাটিকে অম্লীয় মাটি বলা হয়, আবার সাতের বেশি হলে ক্ষারীয়। অধিক মাত্রায় অম্লীয় মাটিতে রাসায়নিক সার গাছের জন্য উপযোগী পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে না, ফলে উৎপাদন কম হয়। ফসলের উপযোগী আদর্শ পিএইচ ৫.৫ থেকে ৭.৫ মাত্রা। মাটির পিএইচ কম হলে ঠিক করার জন্য কম হলে ডলোমাইট চুন প্রয়োগ করতে হয়। আবার পিএইচ বেশি হলে (ক্ষারীয় মাটি) জৈব সার, গোবর, কম্পোস্ট, সালফার ব্যবহার করতে হয়।
নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সারা দেশের মাটিতে পিএইচ ৫ মাত্রা নিচে নেমে যাচ্ছে, যা আগামী দিনের কৃষি উৎপাদনের জন্য অশনি সংকেত। নবীনগর উপজেলায় গত এক বছরে প্রায় দুই শতাধিক কৃষি জমির মাটি পরীক্ষা করা হয়। যার গড় পিএইচ ৪.৯ থেকে ৫.৫ মাত্রা। নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদেরকে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে বিনামূল্যে মাটি পরীক্ষা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। পাশাপাশি জমিতে জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডলুচুন প্রয়োগ করতে কৃষক প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের মাধ্যমে উৎসাহিত করছে।
নবীনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ২০টি ইউনিয়নে এক বিঘা করে মোট ২০ বিঘা জমিতে প্রথমবার ডলোচুন প্রয়োগ করা হয়েছে। ডলোচুন প্রয়োগের আগে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। আবার ফসল উত্তোলন শেষে ফসলের উৎপাদন পরিমাপ এবং পুনরায় মাটি পরীক্ষা করে দেখা হবে পিএইচ মাত্রা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে কি না। ফলাফল ইতিবাচক হলে সারা নবীনগরে বাণিজ্যিকভাবে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে। যা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিউটের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে হয়েছে পিএইচ মাত্রা ৫.৫ থেকে ৭.৫ রাখার জন্য। প্রথমবারের পরীক্ষামূলক ভাবে ২০ টি স্থানে ২০ বিঘা জমিতে ডলোচুন প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রতি শতাংশ জমিতে ৪ কেজি হাওে ডলোচুন প্রয়োগ করা হচ্ছে। মাটিতে উপযুক্ত পিএইচ থাকলে গাছ নাইট্টোজেন, ফসফরাস, পটাশ, জিঙ্ক, আয়রন, বোরন ইত্যাদি পুষ্টি সহজে শোষণ করতে পারে। উপকারী অনুজীব আজোটোব্যাক্টর, রাইজোবিয়াম, ট্রাইকোডার্মা ভালোভাবে কাজ করে।
তিনি জানান, মাটির অ¤øতা (পিএইচ কমে যাওয়া) সমস্যা সমাধানে জমিতে ডলোচুন প্রয়োগ শুরু করা হয়েছে। ডলোচুনে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এগুলো গাছের শিকড় শক্ত করে, পাতার রং ভালো রাখে। বিশেষ করে সবজি, ধান ও ফল বাগানে উপকারী। তাছাড়া পিএইচ ঠিক থাকলে ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশসহ অন্যান্য সার আরও কার্যকর ভাবে কাজ করে। সার অপচয় কমে, ফলন বাড়ে।
Posted ৪:০৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah