নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৭ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | 282 বার পঠিত
বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক আধুনিক চাষ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে আদা চাষের জন্য আলাদা করে জমি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। বিজয়নগর উপজেলায় অনেকের বাড়িতে এ পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করলে অতিবৃস্টি বা বন্যায় ফসল নস্ট হওয়ার ভয় নেই। এ পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায় অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়। বাড়ির উঠোন, প্রাচিরের কোল ঘেঁষে বা বাড়ির আশেপাশে ফাঁকা জায়গা অথবা যেখানে খুশি বস্তায় আদা চাষ করা যায়। বিশেষ করে ছায়াযুক্ত জায়গাতে এ পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। বাঁশ বাগানের তলায় কোনো ফসল চাষ হয়না ফলে জায়গাটা খালি পড়ে থাকে। সেই বাঁশবাগানেও বস্তায় আদা চাষ করা যায়।
এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বসতবাড়ির আশেপাশে, বিভিন্ন ফলবাগানের নীচে ছায়াযুক্ত স্থানে ১০০০০টি বস্তায় আদা চাষ হয়েছে।
পাহাড়পুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের কৃষাণী রাবেয়া খাতুন জানান তিনি এবারেই ১ম কৃষি বিভাগের সহায়তায় ১৫০০টি বস্তায় আদা চাষ করেন। সেজামুড়া গ্রামের ইউছুফ মিয়া জানান তিনিও ৪০০টি বস্তায় আদা চাষ করেন। আদা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন ভিটিদাউদপুর ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল আলম ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোহাঃ নুরে আলম।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোহাঃ নুরে আলম জানান বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক আধুনিক চাষ পদ্ধতি। বস্তায় আদা চাষের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসারদেরকে সাথে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বসতবাড়ির আঙ্গিনা, অনাবাদি জায়গা ও বিভিন্ন ফল বাগানের নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে উঠান বৈঠক, প্রশিক্ষণ,মাঠ দিবসের মাধ্যমে বস্তায় আদা চাষের জন্য কৃষকদেরকে উৎসাহিত করি। এতে করে কৃষকগণ আদা চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন ফলে বিজয়নগর উপজেলায় দিনদিন বস্তায় আদা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে আদা চাষের জন্য আলাদা করে জমি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। বস্তায় আদা চাষের জন্য প্রয়োজন ১টি বস্তা, ০৩ ঝুঁড়িমাটি, ০১ঝুঁড়ি বালি, ০১ঝুঁড়ি পঁচা গোবর সার, ০১ঝুঁড়ি চুলার ছাই ও ২৫ গ্রাম ফুরাডান, ১০গ্রাম টিএসপি, ০৫গ্রাম এমওপি সার।
উল্লেখিত উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে বস্তা ভর্তি করে ৩৫-৫০গ্রামে ০৩ কুঁড়ি বিশিস্ট আদা বীজ এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেরোপন করতে হয়। এতে করে কৃষকের মাত্র খরচ হয় ৫০-৬০টাকা।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোহাঃ নুরে আলম আরো জানান সার্বক্ষনিক কৃষকদের পাশে থেকে আদার গোড়া পচা, কান্ড পচা ও রাইজোম ফ্লাই পোকা দমনসহ বিভিন্ন পরিচর্যা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সঠিক পদ্ধতি প্রয়োজনীয় পরিচর্যা পেলে ১ বস্তায় ১-১.৫ কেজি আদা উৎপাদন সম্ভব।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা শাব্বির আহমেদ জানান ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিসটেন্টপ্রজেক্ট (ফ্রীপ) এর আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রায় ১৩২০জন কৃষককে বস্তায় আদাসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এতে করে কৃষকগণ বস্তায় আদা চাষসহ অন্যান্য ফসল চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। ফ্রীপ এর আওতায় কৃষকদেরকে বস্তায় আদা চাষ প্রদর্শনী প্রদান করা হয়।
বিজয়নগর উপজেলায় এ বছর ১০০০০টি বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। এবং সরাসরি জমিতে ৩৪ হেঃ আদা চাষ হয়েছে। বস্তায় ১০টন এবং জমিতে ৪৭৬ মে.টন সহ সর্বমোট ৪৮৬ মে:টন আদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় নয় কোটি বায়াত্তর লক্ষ টাকা। ফসলের বর্তমান যে অবস্থা প্রকৃতি কৃষকের অনুকুলে থাকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আশা করছি ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে ও সরকারের আমদানী নির্ভরতা কমবে।
Posted ৫:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৭ জুলাই ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah