আরিফুর রহমান আরিফ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 6 বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম আস্থাভাজন সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পদত্যাগ করছেন। চলতি আগস্ট মাসের শেষেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন ২৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা। দুই ছোট সন্তান ও পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতেই তার এ সিদ্ধান্ত। লেভিটের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন ও সম্মান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লেভিট হোয়াইট হাউস ছাড়লেও প্রশাসনের বাইরে থেকে ট্রাম্পের অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ক্যারোলিন এখন থেকে আমার অন্যতম শীর্ষ বাহ্যিক উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে এক প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।’ দুই ছোট সন্তান ও পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য লেভিট যে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি সম্পূর্ণভাবে বোঝেন ও সম্মান করেন বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান লেভিট। প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকে নিজের জীবনের ‘সর্বোচ্চ সম্মান ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
লেভিট লেখেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও দায়িত্বপূর্ণ একটি চাকরি করার পাশাপাশি একজন মা হওয়া এবং নতুন সন্তানের জন্ম দেওয়া নিশ্চিতভাবেই আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক কিন্তু একই সঙ্গে অত্যন্ত কঠিন একটি সময় ছিল।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সত্যি বলতে কন্যাসন্তানের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে আমি হৃদয়ে তীব্রভাবে অনুভব করেছি যে, প্রেস সেক্রেটারি পদে যে অবিরাম সময়, শক্তি ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, তা দিয়ে নিজের দুই ছোট সন্তানের কাছে সেরা মা হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর এই কারণেই অনেক ভেবেচিন্তে শেষ পর্যন্ত আমি হোয়াইট হাউস ছেড়ে জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষাদময় কিন্তু মিষ্টি এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি।’
চলতি বছরের মে মাসে স্বামী নিকোলাস রিকিওর ঘরে দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লেভিট। তার দুই বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে। সন্তান জন্মদানের পর প্রায় সাত সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে গত মাসেই তিনি কাজে ফিরেছিলেন।
তার ছুটির সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগামের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলনের পোডিয়াম সামলেছেন। তবে লেভিটের বিদায়ের পর ট্রাম্পের দুই মেয়াদ মিলিয়ে ষষ্ঠ প্রধান মুখপাত্র কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
হোয়াইট হাউসে প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে লেভিটের। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ও বক্তব্য লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
পরবর্তীতে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগ পরিচালক ও শীর্ষ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জয়ী হলেও মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে হেরে যান।
পরে ট্রাম্পের তহবিল সংগ্রহকারী গোষ্ঠী ‘মাগা ইনক’-এর মুখপাত্র হন লেভিট। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার লেভিটকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ও ‘অনুকরণীয় আদর্শ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একসঙ্গে কাজ করে যাব। তার জীবনের সাফল্যগাথা কেবল শুরু হচ্ছে, ভবিষ্যতে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে তা দেখতে আমি ব্যাকুল হয়ে আছি।’
উল্লেখ্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে লেভিটের সম্পর্ক ছিল বেশ ঘটনাবহুল ও কিছুটা মারমুখী। অনেক সময়ই তিনি কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার দপ্তর হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। ‘মেক্সিকো উপসাগর’কে ‘গালফ অব আমেরিকা’ হিসেবে ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানানোয় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করেছিল তার দপ্তর।
তবে ট্রাম্পের সমর্থক ও কনজারভেটিভদের কাছে লেভিট অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সের পর ট্রাম্পের যেকোনো প্রশাসনে দ্বিতীয় দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রেস সেক্রেটারি হলেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
Posted ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah