আরিফুর রহমান | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 274 বার পঠিত
সামাজিক অস্থিরতার প্যারামিটার দিনে দিনে কী পর্যায়ে যাচ্ছে, সেটা বোধ করি আর ব্যাখ্যা করা দরকার নেই। কারণ চারদিকে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা এখন বর্ণনাতীত হয়ে গেছে এমনটাই ধরে নেওয়া যায়।
গতকাল অনলাইন ভার্সনে একটি রোমহর্ষক সংবাদ এসেছে। যে সংবাদটি দেখে রীতিমতো ভড়কে যাবার অবস্থা তৈরী হয়েছে। মনে হচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা আর পারিবারিক সহিংসতা এখন পাগলা ঘোড়ার মতো হয়ে গেছে।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে ৯ টুকরো করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ফরদাবাদ গ্রাম থেকে অরুণ মিয়া নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবরে বলা হয়, প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ফরদাবাদ গ্রামের তারু মিয়ার মেয়ে মোমেনা বেগমকে বিয়ে করেন অরুণ মিয়া। অরুণ-মোমেনার দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ হন অরুণ। তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে লুৎফর রহমান রুবেল সোমবার বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম, ছেলে রাসেল এবং মেয়ে লাকী আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম। বুধবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হত্যার পেছনের আসল রহস্য একদিন বেরিয়ে আসবে। কিন্তু যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটা পৈশাচিক। মানুষের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ না থাকলে যেটা হয়, সেটাই মূলত এখানে কাজ করেছে। এমনটাই বলা যায়। আমরা প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।
নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের ভেতরে একটা মনুষ্যত্ব তৈরী করে। যা মানুষকে ভেতর থেকে মানুষ হয়ে ওঠতে সাহায্য করে। আমরা দিনে দিনে মানুষের আবরণ ছেড়ে পশুর আচরণের দিকে ধাবিত হচ্ছি। মনে হচ্ছে আমরা আমাদের জগতটাকে একটা আদিম বলয় তৈরী করছি।
এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কথায় চিন্তায় এবং কর্মে মানুষকে মানুষের মতো হতে হবে। মানুষকে পশুর আচরণ মানায় না।
Posted ৪:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah