জায়দুল কবির ভাঙ্গী, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর : | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 68 বার পঠিত
গাজীপুরের শ্রীপুরে অনুমোদিত ইমারত নির্মাণ নকশা লঙ্ঘন করে প্রায় ৮৬০ বর্গফুট অতিরিক্ত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ফ্লোর এরিয়া ছিল ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট। কিন্তু বাস্তবে নির্মিত হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ বর্গফুট। এছাড়া ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ভবনটি শ্রীপুরের ২ নং সি অ্যান্ড বি টু অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন মেইন রাস্তার বাম পাশে অবস্থিত। কলেজ মোড় থেকে ৫০০ গজ সামনে ৫ তলা এই ভবনের মালিক মোঃ মোস্তফা ফকির। তার গ্রাম বাশিয়া, থানা দক্ষিণ গফরগাঁও, জেলা ময়মনসিংহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে কোনো প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধান ছাড়াই। বাংলা রাজমিস্ত্রির মাধ্যমে ভবনটি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ভবনের ফ্লোর একদিকে উঁচু, অন্যদিকে নিচু। পশ্চিম দিকে ভবনটি সামান্য হেলানো অবস্থায় রয়েছে। যেখানে পিলার হওয়ার কথা সেখানে পিলার করা হয়নি। এসব কারণে যেকোনো সময় সামান্য ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভবনে ভাড়া থাকা মানুষ, পাশের ভবন ও সামনের চলাচলের রাস্তায় বহু মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জমির তথ্য অনুযায়ী, মৌজা কেওয়া, এসএ দাগ নং ৯৬৩, আরএস দাগ নং ৬৮৭৭, এসএ খতিয়ান নং ৯২, আরএস খতিয়ান নং ৮৭১। জমির পরিমাণ ০৭ শতাংশ। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোস্তফা ফকির পেশায় একজন মাস্তান, দখলবাজ, নেশাখোর, বাটপার ও ধোকাবাজ। তার বিরুদ্ধে মাওনা চৌরাস্তা, ২ নং সিএমবি এবং বাশিয়া গ্রাম এলাকায় চাঁদাবাজি, অবৈধ জমি দখল, ফ্যাক্টরি দখল, মিছিল ও রংবাজির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ভবনে পলাতক দুই আওয়ামী লীগ শীর্ষ সন্ত্রাসী থাকেন। তারা হলেন মোস্তফা ফকিরের ছোট ভাই আলমগীর এবং কালাম ডাকাত। তারা গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মানুষকে নির্যাতন করার কারণে নিজ বাড়িতে যেতে পারছেন না।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক আবেদনে বলা হয়েছে, Building Construction Act, 1952-এর ধারা ৩ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, সংযোজন বা পরিবর্তনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই আইনের ধারা ৩বি-এর অধীনে অনুমোদনবিহীন বা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে নির্মাণের ক্ষেত্রে অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২০-এর ধারা ৪১ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইমারত নির্মাণ নিষিদ্ধ। ভবনটি শ্রীপুর পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত হলেও সংশ্লিষ্ট জমি জিডিএ-এর অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে কিনা তা যাচাই করা জরুরি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে জরুরি ভিত্তিতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা কারিগরি কর্মকর্তার নেতৃত্বে সরেজমিন তদন্ত ও ডিজিটাল পরিমাপ করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত মূল নকশা, নির্মাণ অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, অতিরিক্ত নির্মাণের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ, এফএআর, এমজিসি, সেটব্যাক, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য শর্ত পরীক্ষা এবং অবৈধ অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া তদন্ত চলাকালীন ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কার্যক্রম পাওয়া গেলে জননিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Posted ৫:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah