সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য | মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 227 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের আনন্দবাজারের বাঁশপট্টির আলোচিত লিজ অবশেষে বাতিল হচ্ছে। এ নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ২৭ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় একথা জানানো হয়।
তবে নদীর পাড় ও বাঁধ সংলগ্ন ওই স্থানে ট্রাক স্ট্যান্ড করা ঠিক হবে কিনা সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। সেই পর্যন্ত বাজারের মূল্যবান সরকারি ওই জায়গা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। তাছাড়া জায়গাটি সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের হাটবাজার শ্রেণির পেরিফেরিভুক্ত হওয়ায় এর শ্রেণি পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়।
পুরাতন বাঁশ বাজার হিসেবে পরিচিত সরকারি ওই জায়গা ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় হিসেবেই এতোদিন ব্যবহার হয়ে আসছিল। সম্প্রতি প্রশাসন ৩৩টি একসনা বন্দোবস্ত মোকদ্দমা মূলে আনন্দবাজারের পুরাতন বাঁশপট্টির দশমিক ২০৯৪ জায়গাটি বন্দোবস্ত দেয়। এরপরই বন্দোবস্ত বাতিল করে সেখানে ট্রাক স্ট্যান্ড করার দাবি ওঠে ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে। ওই জায়গার বন্দোবস্ত বুঝিয়ে দিতে গিয়ে হামলায় আহত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ভূমি অফিসের ১৫ কর্মচারী।
এর আগে, বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এবং বন্দোবস্তপ্রাপ্তরা সেখানে কাজ শুরু করলে হুমকি দেওয়া হয়। ২০, ২১ ও ২৩ অক্টোবর সংগঠিত এসব ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দুটি মামলা হয়।
এসব মামলায় ৬ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরো একশ’ জনের বেশি লোককে। গত ২৩ অক্টোবর রাতে মামলার এজাহারনামীয় আসামি ব্যবসায়ী জহিরুল হক খোকনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরদিন ব্যবসায়ীর মুক্তি ও খাস জায়গার বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে শহরের ৪টি বাজার ও ১টি মার্কেটের দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসন সভা আহ্বান করে। এতে ওই স্থানটিতে ট্রাক স্ট্যান্ড করার কথা বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হলে নদীরপাড়ে বাঁধ দেওয়া স্থানে ট্রাক স্ট্যান্ড করা যাবে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি রিপোর্ট পড়ে শুনানো হয়।
এ ছাড়া হাটবাজার শ্রেণির জায়গায় ট্রাক স্ট্যান্ড করা যাবে কিনা সে ব্যাপারে সরকারের অনুমতি, সেখানে ট্রাক স্ট্যান্ড করলে কয়টি ট্রাক সংকুলান হবে, যানজট বৃদ্ধি পাবে কিনা ইত্যাদি নানা দিক আলোচনা করে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সেই পর্যন্ত ওই জায়গা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে জানিয়ে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে লিজ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেহেতু জায়গাটি তিতাস নদীর পাড়ে এবং বাঁধ সংলগ্ন সেজন্য সেখানে ট্রাক স্ট্যান্ড করা সমীচীন হবে কিনা সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। সরকারি জায়গাটি যাতে বেদখল না হয় সেজন্য সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম। প্রশাসনের কমর্কর্তাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শংকর কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা।
এ সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসাইন আকন্দ, এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন, ইসলামী আন্দোলন সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম, গণঅধিকার পরিষদ নেতা আশরাফুল ইসলাম তপু, বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আবুল কালাম, আশীষ পাল, মো. সফিউল্লাহ, জালাল উদ্দিন, ট্রাক মালিক গ্রুপের নেতা মো. মেরাজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খান সাদাত প্রমুখ।
Posted ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah