শনিবার ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, আলোচনায় খেজুর গাছ

দুলাল মিয়া   |   সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   133 বার পঠিত

নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, আলোচনায় খেজুর গাছ

মাঝখানে আর মাত্র ৩দিন বাকি। নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনের গ্রামীণ জনপদ। এর মধ্যে সরে দাড়ালেন জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এড. জিয়াউল হক মৃধা। ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণার শুরু হওয়ার আগে ও পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠে-ঘাটে, চায়ের দোকানে, বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দোকানপাট, বাড়ি বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে ভোট চাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনের প্রচারণা ও ভোট প্রার্থনা।

প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা রাত-দিন অবিরামভাবে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। এই নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীরা তাদের স্ব-স্ব অবস্থান এবং ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে।

শেষ মূহুর্তে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (হাঁস) এর মধ্যে মূল লড়াই হবে।

তাদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে বিএনপির আরেক বিদ্রোহী এস এন তরুণ দে (কলার ছড়ি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন মাহদি (শাপলা কলি) । শেষ দুজন যেকোনো মূহুর্তে ফলাফল পাল্টে দিতে পারে। প্রবাস অধ্যুষিত এই আসনে মূল ফ্যাক্টর হবে নারী ভোটার। নতুন তরুন ভোটারাও প্রভাব ফেলবে।

দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু হতেই উপজেলার রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে গতি ফিরে এসেছে। মাইকিং স্লোগান, আর ব্যানারে মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদের উপজেলার হাট-বাজার, গ্রাম-মহল্লাগুলোতে। প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উপজেলার চায়ের দোকান, বাজারের মোড়ের দোকানে এখন চলছে নির্বাচনের আমেজ। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না থাকায় এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নতুন করে আগ্রহ বাড়লেও তবে অধিকাংশ ভোটার এখনো নীরব।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীদের পক্ষে। নীরব ভোটারই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। একটি বিষয় স্পষ্ট ভোটার কম কথা বলছেন, তবে ভোট নিয়ে তাদের আগ্রহ কম নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দিন ভোট না দিতে পারায় শেষ মুহুর্তে ভোটের হিসেব পাল্টে দিতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (হাঁস) শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে নীরব ভোটার ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত এবং শেষ মুহুর্তের কৌশলই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শীতের মৌসুমেও এই আসনে পুরোদমে বইছে নির্বাচনি গরম হাওয়া। বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের একাধিক প্রার্থীরা জোরে সোরে চালাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচারণা।

নিয়মিত জনসভা ও উঠান বৈঠকে জুনায়েদ আল হাবিব বলছেন, এবারের নির্বাচন অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণের ভোটের লড়াই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ) বিএনপি-সমর্থিত ভোটে এগিয়ে আছে।

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে খেজুর গাছ মার্কায় বিএনপি–জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বিশিষ্ট আলেম, ওয়ায়েজ ও হাকিমুন নফস মাওলানা মুফতি মুশতাকুন নবী কাসেমী এর সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা এবং অংশ গ্রহণ নেয়ায় ভোটারদের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাওলানা মুফতি মুশতাকুন নবী কাসেমী এর হুজুরের অংশগ্রহণ এবং বিএনপি–জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থীই তাদের পছন্দের প্রার্থী। যেহেতু হুজুর তাই দুর্নীতি করার কোন সুযোগ থাকবে না। যতটুকু উন্নয়নই হয় তা হবে শতভাগ বা ১০০%।

সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারাই দেশের ক্ষমতায় এসেছে, তারা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে। চেত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে দেয়নি। তিনি আরো যোগ করেন, অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এবার প্রার্থীদের কাছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই আমাদের প্রধান দাবি।

এদিকে, অরুয়াইল বাজারসংলগ্ন তিতাস নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে ইঞ্জিন নৌকা ও বাল্কহেড নির্মাণ শিল্প। পরিসর ছোট হলেও সম্ভাবনাময় শিল্পটি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া তিতাস নদী ড্রেজিং করে অরুয়াইল বাজারে নৌবন্দর স্থাপনের দাবিও ভোটারদের কণ্ঠে। যার মাধ্যমে বদলে যাবে সরাইল অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের অন্তরায় গ্রাম্য দাঙ্গা। দুই উপজেলায় যুগ যুগ ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গোষ্ঠিগত বিরোধ ও জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধসহ তুচ্ছ ঘটনার জেরে চলছে দাঙ্গা। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাম্য সর্দাররা নিজেদের আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্য দাঙ্গা উসকে দেন। দাঙ্গা পরবর্তী মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন সর্দাররা। তাই গ্রাম্য দাঙ্গা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন ভোটাররা।

ভোটারদের অতিপ্রয়োজনীয় দাবিগুলোকে প্রাধান্য দিয়েই প্রার্থীরা ইশতেহার সাজাচ্ছেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে ছুটছেন।

বিএনপি শরিক জোটের মনোনিত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনাইদ আল হাবিব বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের মানুষ আমাকে আপ্রাণ ভালোবাসা দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল দিতে পারব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঐক্যের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। ঐক্য ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি, তাহলে সামনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সরাইল-আশুগঞ্জে খেজুর গাছ মার্কাই ধানের শীষ।

একই সঙ্গে এই আসনে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য জেলা জামায়াতের আমীর, মাওলানা মোবারক হোসেন। সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, উঠান বৈঠক, সভা সমাবেশ, গণমিছিল ও সাংগঠনিক তৎপরতা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদী।নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে তিনি তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এদিকে, কয়েকজন প্রার্থীর সাথে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তাই বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রুমিন ফারহানা ও তরুণ দে দল থেকে বহিষ্কার হন। তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। এদিকে, বহিষ্কার আতঙ্কে অনেক নেতাকর্মী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষ প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন এমনকি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে লাইভে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে সমর্থন করেছেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দলীয় ও জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই আসনে সরাইলের ৯ টি, আশুগঞ্জের ৮ টি ও বিজয়নগরের ২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ২শত ৪৫ জন। নারী ভোটার ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ২শত ০১ জন, হিজড়া ভোটর ২জন। ৯৮টি কেন্দ্রের ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৩৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া