নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | 280 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে মামলার আসামিকে বাঁচাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নতুন এক কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত, টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার (যৌন নিপীড়ন) অভিযোগ রয়েছে একই গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া অপর কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনার দিনই ওই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরের দিন আদালতের মাধ্যমে কিশোরকে গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই কিশোর জামিনে এলাকায় ফিরে আসে। ওই কিশোর বাড়িতে আসার পরই বাঁধে বিপত্তি।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম দিনের ঘটনার বিপরীত বক্তব্য দিয়ে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ অভিযুক্ত কিশোরকে চিনতে পেরে আদালতে শিশুরা ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রৌশন আরা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক মিয়ার সামনে শিশুদের একটি মোবাইল থেকে ছবি দেখালে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে তারা। থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীদের বাবারা। তারপর প্রধান শিক্ষক হঠাৎ করেই উল্টো অবস্থান নিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, স্কুলে যৌন নিপীড়নের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহী গণমাধ্যমকর্মী ধর্ষণের ঘটনা লিখে শিরোনাম করে নিউজ করেছে। যা খুবই দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে একটি ঘটনাকে ধাপাচাপা দিতে নতুন ঘটনার জন্ম হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনাটি আড়াল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া মামলার আসামিকে বাঁচাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নতুন এক কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিপরীতমুখী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে টেকানগর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রৌশন আরার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কথা বলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহাগ রানা বলেন, শিশুরা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। ভিকটিমদের পরিবার থানায় মামলা করেছেন। শিশুরা প্রধান শিক্ষকের সামনে অভিযুক্তের ছবি দেখে শনাক্ত করেছে। সবকিছু মিলিয়ে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। প্রধান শিক্ষক ঘটনার এক সপ্তাহ পর কেন বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছেন সেটা বোধগম্য নয়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার (যৌন নিপীড়ন) অভিযোগ উঠে একই গ্রামের ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ুয়া অপর কিশোরের বিরুদ্ধে।
Posted ৩:৪২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah