অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 66 বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তে বড় ধরনের চাপে পড়েছে ভারতের আটটি শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো প্রতিষ্ঠানের পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (পার্ম) প্রক্রিয়া স্থগিতের খবরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দেশটিতে কর্মরত হাজারো বিদেশি প্রযুক্তিবিদের গ্রিন কার্ড পাওয়া নিয়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা আটটি প্রতিষ্ঠান হলো—টাটা, ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজেন্ট, এইচসিএল, অ্যাডোবি, ক্যাপজেমিনি ও মাইক্রোসফট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশটির নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার যুক্তিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
নতুন আবেদন বন্ধ, আটকে যেতে পারে পুরোনো আবেদনও
এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে পার্ম আবেদন জমা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও স্থগিত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম হলো নিয়োগকর্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ ব্যবস্থায় মার্কিন শ্রম বিভাগ যাচাই করে দেখে, সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি বা চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।
এইচ-১বি ভিসা বাতিল নয়, তবু বাড়ছে দুশ্চিন্তা
পার্ম প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। তবে গ্রিন কার্ডের আবেদন আটকে গেলে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বিশেষ করে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের জন্য এ সিদ্ধান্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এতে তাঁদের চাকরি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন এমন সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের?
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পার্ম ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এতে মার্কিন নাগরিকেরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
দক্ষ কর্মী নিয়োগেও চ্যালেঞ্জ
পার্ম প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশি দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের আকৃষ্ট করা ও ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও অনেক বিদেশি পেশাজীবীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে যোগ্যতা ও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কিছু কর্মী ইবি-১এ বা ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভারের মতো বিকল্প অভিবাসনপথ বিবেচনা করতে পারেন। তবে এসব ব্যবস্থায় আবেদন করতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়; এগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত দেশটির প্রযুক্তি খাতের নিয়োগনীতি এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
Posted ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah