সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 37 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তালাকের কথা শুনে অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নাওঘাট মহন মিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারজানা আক্তার নাওঘাট পূর্বপাড়ার মিন্টু মিয়ার মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে সাচ্চু মিয়ার (২৭) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাচ্চু মিয়া বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ফারজানার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামীর মুখে তালাকের কথা শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের টিনের রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার মেয়ের প্রতি স্বামীর সন্দেহ ছিল। বিশেষ করে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে তা নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য হতো। ঘটনার দিন ফোনে তার মেয়েকে ‘দুই তালাক’ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরই অভিমানে ফারজানা আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণকে দায়ী করে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বামীর সঙ্গে অভিমানের জেরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি আশুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Posted ৬:২০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah