সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 53 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়েশা আক্তার (১০) নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে ২৯ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভর্তি করা হয়।
আয়েশা জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্ত চিকিৎসক কে. এম. আবদুল্লাহ আল নোমান ও তার স্ত্রী কিমিয়া সাদাত তোফাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৯ মাস আগে আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকায় ওই দম্পতির বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। তবে গত তিন মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি চিকিৎসক দম্পতি আয়েশার পরিবারকে জানান, সে বাসা থেকে চুরি করে পালিয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ এপ্রিল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির পরিবার।
পুলিশ জানায়, জিডির সূত্র ধরে বুধবার সকালে অভিযুক্তদের পাশের একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকালে তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে।
পরিবারের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়েশাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। নিজেদের দায় এড়াতে এখন তাকে চোর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক নোমান দাবি করেন, তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে ছিলেন। তার দাবি, গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের বাসা থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরির ঘটনা আড়াল করতেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Posted ১:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah