জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 345 বার পঠিত
বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ জেলার লোকের বসবাস শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে। দিন দিন যেমন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। চিকিৎসা মানুষের জীবনে অপরিহার্য হলেও আসল-নকল ডাক্তার চেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ পড়ছেন প্রতারণার ফাঁদে। বড় বড় সাইনবোর্ডে নামের পাশে জটিল সব ডিগ্রি আর পদবী দেখে রোগীরা চিকিৎসার জন্য ছুটে গেলেও অনেকেই আসলে অবৈধভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বছরের পর বছর।
সম্প্রতি গাজীপুরে অনুসন্ধানে উঠে আসে উদ্বেগজনক সব তথ্য। জানা যায়, হোমিওপ্যাথিক সার্টিফিকেট, হোমিওপ্যাথিক বোর্ড রেজিস্টেশন, স্বাস্থ্য সনদ ও ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন বহু হোমিওপ্যাথিক চেম্বার পরিচালিত হচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য উচ্চ আয়ের মানুষগুলো যেমন দুটি চলে দেশ বিদেশের মাটিতে, তেমনি নি আয়ের মানুষগুলো সরকারি হাসপাতাল এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উপর। গাজীপুরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সরজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা মিলে বিপত্তি। চিকিৎসা মানবদেহে অপরিহার্য সত্য হলেও যেন মিথ্যার সয়লাব আসল নকল ডাক্তার চেনা প্রায় অসম্ভব। ভুয়া ডাক্তারের বিস্তার লাভ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার নামে ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা মাত্র। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভোগড়া বাসনে একাধিক হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাৎ করি জানতে চাওয়া হয় নামের পাশে ডাক্তার পদবি ব্যবহারের জন্য যেই যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। সে যোগ্যতা অর্জন করেছেন কি প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন উত্তরা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কলেজে অধ্যায়নরত তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অধ্যায়নরত অবস্থায় সে নামের পাশে ডাক্তার লাগিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। জান্নাত হোমিও হল মোঃ জহির রায়হান বলেন, আমরা তো তিন বছর পড়েছি, এলোপ্যাথিক, তিন মাসের কোর্স করে এন্টিবায়োটিক দিয়ে আসছেন, সেই তুলনায় আমরা অনেক ভালো, আরো বলেন, বাংলাদেশের আইনে ডিগ্রী লেখা যায় না কিন্তু হোমিও আইনে নাকি ডাক্তারি করতে পারেন। মাহমুদ হোমিও হলে সাক্ষাতে বলে আমার ভাই মোবাইল ফোনে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন ডাক্তার মাহমুদুল হাসানকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে জবাবে বলেন আমার ভাই দেখাশোনা করেন, ডিএইচএমএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র চিকিৎসা ও চেম্বার পরিচালনা করে আসছেন।
দেখাতে পারেননি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্য সনদ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি পত্র (ড্রাগ লাইসেন্স) কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই ২০২৩ সালের হোমিওপ্যাথিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা বাণিজ্য। ঠিক অনেকটা অদক্ষ চালকের হাতে বিমানের চাবি। অনুসন্ধানে দেখা যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নামে অনিয়মের আঁতুড় ঘরে পরিনত হয়েছে। কোন ধরনের আইন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না তারা। ডাঃ শরিফ হোসেনকে হোমিওপ্যাথিক বোর্ড রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হলেও করেননি নবায়ন। নবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদেরকে কলেজ থেকে বলে নাই। প্রতিবেদকদেরকে প্রশ্ন করেন আপনাকে কে বলেছে নবায়ন করতে হয়, আমাদের তো জানা নেই। চিকিৎসা দিতে এগুলো লাগেনা আপনাদের মতো দুই চারটা সাংবাদিক আমাদের ও আছে। বলতে বলতে প্রতিবেদক কে একজন সাংবাদিককে মুঠোফোন ধরিয়ে দেয় চিকিৎসক। ১৩ সালের ট্রেড লাইসেন্স ধরিয়ে দেয় আমাদের হাতে। এ সকল চিকিৎসক কোন ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। নেই কোন, ট্রেড লাইসেন্স, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন, ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক সনদ, (ড্রাগ লাইসেন্স) সরজমিনে তথ্য সপ্তাহ করার সময় কোন চেম্বারই দেখাতে পারেননি। জানতে চাইলাম সরকারি সনদ ও আইনি বিধি-বিধান ছাড়া চিকিৎসা সেবা প্রদান কতটুকু বৈধ কোন ধরনের সদ উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যায় একাধিক চিকিৎসক। সরকারি সনদ ও আইনি বিধি বিধান ছাড়া চিকিৎসা সেবা কতটুকু বৈধ, জানতে পর্যায়ক্রমে কথা বলি গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন, গাজীপুর সিটি জেলা ঔষধ প্রশাসন, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক রেজিস্ট্রার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে।
Posted ২:৩৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah