নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 0 বার পঠিত
দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে মাত্র দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। এক গর্ত এড়িয়ে সামনে এগোলেই আরেকটি গর্ত। কোথাও উঠে গেছে পিচের আস্তরণ, কোথাও ক্ষয়ে গেছে সড়কের বুক। আবার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় কোথায় সড়ক আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বোঝারও উপায় নেই।
এ অবস্থায় দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়ে দুলে উঠছে, আতঙ্কে থাকছেন যাত্রী ও চালকরা। সামান্য অসতর্কতায় ঘটছে দুর্ঘটনা, আর গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আমতলী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। তবে শুধু এই অংশ নয়, চট্টগ্রামের সিটি গেট থেকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত যাত্রী ও চালকদের দাবি, কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়েই দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
পদুয়ার বাজার থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট, সুয়াগাজী বাজার, লালবাগ, চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার, হাড়িসর্দার, মিরশ্বানী, কালীরবাজার, নানকরা, আমজাদের বাজার, বসন্তপুর, কেওছিমুড়া, নিমসার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশেই বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। কোথাও আগের সংস্কারকাজ ভেঙে নতুন গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও জোড়াতালি দেওয়া অংশ উঁচু-নিচু হয়ে নতুন ভোগান্তির কারণ হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকটি স্থানে গর্ত ভরাট করা হলেও টানা বৃষ্টিতে অনেক জায়গার মেরামত আবার নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দুর্ভোগ কমার বদলে আরও বেড়েছে।
আমতলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা কাভার্ডভ্যানচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দিনের বেলায় গর্ত দেখা যায় বলে কোনোভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। কিন্তু রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত থাকায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।’
ঢাকা থেকে নিয়মিত কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গর্তে পড়লে পুরো বাস কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের নিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’
বাসচালক আবুল খায়ের বলেন, ‘গর্তের কারণে বারবার গতি কমাতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সময় ও জ্বালানি খরচ বাড়ছে, পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমীর হোসেন বলেন, ‘বারবার অস্থায়ী সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর আবার একই জায়গায় গর্ত তৈরি হয়। স্থায়ী সংস্কার ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না।’
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ভারী যানবাহনের চাপে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ চলছে। তবে বর্ষাকালে স্থায়ী সংস্কার সম্ভব নয়। আবহাওয়া অনুকূলে এলে কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পর্যায়ক্রমে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
Posted ২:০২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah